বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর পরিচয়, পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকার ইমরান (২৭) ও তার ছয় সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ। পরে গ্রেপ্তার ইমরানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপসী এলাকায় তার বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ইমরান (২৭), মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), পাভেল সর্দার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪), নুরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)।
ডিএমপি জানায়, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে অপরাধী ও তাদের অপরাধের ধরন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, ৬-৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় দূরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশের ফাঁকা জায়গায় ডাকাতির পরিকল্পনার জন্য জড়ো হয়েছে। তারা বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বাহিনীর নাম, পদবি ও পোশাকের পাশাপাশি ওয়াকিটকি এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে দস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিল।
খবর পেয়ে লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনারের (এসি) নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মো. তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
তৈয়ব আলী সর্দারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাভেল সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মোবাইল ফোন, র্যাবের লোগোযুক্ত একটি আইডি কার্ড হোল্ডার, দুটি সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ ও একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করা হয়।
পরে তৈয়ব আলী ও পাভেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানার সেন্টার পয়েন্ট শপিংমলের পার্কিং এলাকা থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হ্যান্ডকাফ, দুটি ভুয়া গাড়ির নম্বর প্লেট, তিনটি ‘র্যাব’ লেখা ভেস্ট, একটি ‘ডিবি’ লেখা ভেস্ট, দুটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, পাঁচটি কালো রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, পাঁচটি হলুদ রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি কালো রঙের পিস্তল কভার, একটি খেলনা পিস্তল ও তিনটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা সংঘবদ্ধভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত। পরে ইমরানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় তার বোনের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া তৈয়ব আলী সর্দারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তার মালিকানাধীন একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা পিস্তলটি তৈয়ব আলী সর্দার কিছুদিন আগে তার সহযোগী ইমরানের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।
ডিএমপি আরও জানায়, তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তৈয়ব আলী ও পাভেলের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেত থানার কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনাতেও তৈয়ব আলী জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ডাকাত দলের সদস্যরা সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানানো হয়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এদিকে, রূপগঞ্জের রূপসী এলাকার ইমরানের অন্যান্য সহযোগীদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।