বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় কৃষি সহায়তা তালিকার বরাদ্দ নিয়ে এক বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে নিজের স্বজনদের তালিকায় নাম ভেড়াতে না পেরে উল্টো সাধারণ কৃষকদের নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
আবেদন ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাপাইতি গ্রামের প্রকৃত কৃষক মোঃ রিপন মিয়া, মোঃ রেজাউল করিম, শাহ আলম, লিয়াজ উদ্দিন ও জসীম উদ্দিন সরকারের চলমান কৃষি সহায়তা তালিকায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে প্রাপ্ত কার্ড জমা দিতে যান। তবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব তাদের জানান, তাদের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। পরে উপজেলা প্রকল্প কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে কৃষকরা জানতে পারেন, নিজেকে সাংবাদিক দাবি করা আব্দুল আউয়াল মিজবাহ নামের এক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দাখিল করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল মিজবাহ স্থায়ীভাবে এলাকায় বসবাস করেন না এবং তিনি নিজে কোনো কৃষকও নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি নিজের পছন্দের ৪০ জনের একটি নিজস্ব তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য ইউপি সচিব ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য ওই মনগড়া সম্পূর্ণ তালিকা গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রকৃত কৃষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি শুরু করেন।
লিখিত আবেদনে কৃষকরা আরও উল্লেখ করেন, আব্দুল আউয়াল মিজবাহ অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি নিজের সহোদর তিন মামা—আঃ নূর, আঃ রশিদ ও রফিকুল ইসলাম (সর্ব পিতা: সোনাফর আলী) সহ নিজের আপন ভাই, ভাবি, চাচাতো ও মামাতো ভাইদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন। অথচ নিজের এই প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি আড়াল করতে তিনি প্রকৃত কৃষকদের সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ রিপন মিয়া বলেন, আমরা কষ্ট করে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। সরকারি সহায়তার তালিকায় নিয়ম মেনেই নাম এসেছে। কিন্তু শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত সঞ্জয় ঘোষ জানান, লিখিত আবেদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।