সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে এডিস মশার বিস্তার বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও।
প্রতিদিনই জ্বর, শরীরব্যথা ও দুর্বলতাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। দ্রুত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা এবং বাড়ির আশপাশের নর্দমা, ডোবা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার না রাখলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস রূপগঞ্জ উপজেলায়। ঘনবসতিপূর্ণ এ উপজেলায় দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১০৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আবার কারও অবস্থার উন্নতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর অবস্থার রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু হলে সাধারণত হঠাৎ উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা এবং বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগীর শরীরে পানিশূন্যতাও দেখা দেয়।
রোগীরা জানান, প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে অনেকেই বাড়িতে চিকিৎসা নেন। তবে কয়েকদিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নিলেই হবে না, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানো সম্ভব।
সাওঘাট এলাকা থেকে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগী আহমদ আলী বলেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনের কার্যক্রম চালানো হলেও আমাদের রূপগঞ্জে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে।”
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম বলেন, “ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বাড়ির আশপাশে যেখানে-সেখানে পানি জমতে না দিলে এডিস মশা ডিম পাড়ার সুযোগ পাবে না। মশার বংশবিস্তার রোধ করতে পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার চেয়ারম্যান, সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাড়া-মহল্লার প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় থাকা ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে এবং মানুষের মধ্যে গণসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব।”
স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।