বুধবার, ২৯ Jul ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাফনের আড়াই বছর পর মালয়েশিয়া প্রবাসী ইমন হোসেনের (৪২) লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) পূর্বাচল উপশহরের কালনী এলাকার কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহানের তত্ত্বাবধানে আনসার সদস্য, রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচলের বরকাউ গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে ইমন হোসেনের সঙ্গে ২০০৬ সালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানার পূর্ব মুগারচর গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে রানু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ইমন হোসেন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ইমন হোসেন মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। পরদিন অসুস্থ হয়ে রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০ জানুয়ারি দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই একই দিন সন্ধ্যায় পূর্বাচলের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল নিহতের বাবা মজিবুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকা জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ইমন হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী রানু আক্তার, শ্বশুর হযরত আলী, শাশুড়ি পিয়ারা বেগম ও শ্যালক ভুলু মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে লাশ উত্তোলন এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার বাদী মজিবুর রহমানের দাবি, পারিবারিক কলহ এবং ইমন হোসেনের অর্থ-সম্পদের লোভে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহান বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত নয়।