বুধবার, ২৯ Jul ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
দক্ষিণ সুরমা (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেট মহানগর ও আশপাশের এলাকায় প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি রিচার্জ করার পর কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মিটার থেকে অস্বাভাবিকভাবে টাকা কেটে নেওয়া এবং ব্যালেন্স দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন শত শত গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের দাবি, আগাম কোনো নোটিশ বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের মিটারের ব্যালেন্স কমে যাচ্ছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সিলেটের আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম Sylhetview-এর একটি ফেসবুক পোস্টে অসংখ্য গ্রাহক প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ
নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে পুরো মাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেত। কিন্তু বর্তমানে একই পরিমাণ টাকা রিচার্জ করার কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, জরুরি ব্যালেন্স ব্যবহারের পরও অতিরিক্ত চার্জ কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, “মিটারে টাকা রিচার্জ করার পরপরই ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ বা অন্যান্য খাতের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার তুলনামূলক কম হলেও এভাবে টাকা কেটে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।”
ট্যারিফ পরিবর্তন ও টোকেন জটিলতা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর অনেক গ্রাহক ২২০ ডিজিটের দীর্ঘ রিচার্জ টোকেন ব্যবহার করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। অনেকের ধারণা, ট্যারিফ হালনাগাদ বা সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মিটারে অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয় হচ্ছে।
এছাড়া দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে গিয়ে সামান্য ভুল হলেই অনেক ক্ষেত্রে মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রিপেইড মিটারে কোনো ধরনের ‘ভুতুড়ে’ বা অযৌক্তিকভাবে টাকা কেটে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, সরকারের নির্ধারিত নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়া, পূর্বের কোনো বকেয়া সমন্বয়, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ বা অন্যান্য অনুমোদিত চার্জের কারণেই রিচার্জের সময় কিছু অর্থ সমন্বয় হতে পারে।
তবে যদি কোনো গ্রাহকের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে টাকা কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে নিকটস্থ বিউবো কার্যালালে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।
এদিকে প্রিপেইড মিটারে ঘন ঘন অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন সিলেটের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।