রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞাপন:
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম...
শিরোনাম :
নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত ওসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১১৭ কোটি টাকার কদমতলী বাস টার্মিনাল এখন অব্যবস্থাপনার চাদরে সিলেটে মাজার-মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০ নাগেশ্বরীতে অরণ্যের উদ্যোগে ‘সবুজ উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম জেলা সাইবার দলের নতুন কমিটি অনুমোদন মাদকের বিরুদ্ধে উত্তাল দক্ষিণ সুরমা: বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন নেতার হুঁশিয়ারি গিরার পাড় জান্নাতুল বাকী কবরস্থানের জমি ক্রয় ও উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন নাগেশ্বরীতে ‘বেতের ছোঁয়া অ্যান্ড কসমেটিকস’-এর শুভ উদ্বোধন রূপগঞ্জের অর্থনীতিতে বিদ্যুতের ‘ব্ল্যাকআউট’ সিলেটে ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল আটক

সিলেটে মাজার-মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০

আহমেদ আকবর, সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানার সিলাম এলাকায় একটি মাজার ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ ও ৩৫ থেকে ৪০টি দোকানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সিলামের চকের বাজার এলাকায় হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.)-এর জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের আরও অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ও মসজিদের মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি, শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল ও শাহ সুমনসহ আরও অনেকে। তাদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে সিলামের শেখপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে নামাজ পড়তে এলে ওয়াকফ এস্টেট ও দোকানকোঠার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। গত ২৯ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের এক আদেশে এই ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি এবং ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লি করা হয়। এ ছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লি এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। শুনানি শেষে ওয়াকফ প্রশাসক অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে মাজার ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2026 shomoyerkhobor.com
Design & Developed BY starwebhostit