শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সুইপার কলোনি এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ নান্টু লাল ও মনি লাল নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের আটকের পর কলোনির ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি মুদির দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ সুইপার কলোনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। অভিযানে নান্টু লাল ও মনি লালকে মাদকসহ আটক করা হয়। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কলোনির ভেতরে উত্তেজনা দেখা দেয়।
একপর্যায়ে কলোনির বাসিন্দা সায়েদ মিয়ার একটি মুদির দোকানে ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে দুটি মোটরসাইকেলসহ আশপাশের কিছু অংশে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাইকে তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে কলোনির বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে আড়াল করতে অন্যদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সুইপার কলোনির বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, কলোনিতে অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। একজনকে ভালো সাজিয়ে অন্য কাউকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেটি ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাদকসহ দুইজনকে আটকের পর ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।