সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞাপন:
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম...
শিরোনাম :
রূপগঞ্জের সাওয়ানার হাত ধরে চীনে বাংলাদেশের গৌরবময় সাফল্য সিলেটে ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ্বে তরুণকে ছুরিকাঘাত, ওসমানীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রূপগঞ্জে স্কাফ-উইনসিরেক্স, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাগেশ্বরীতে স্কুল ছাত্রীকে হেনস্তা করার জন্য বখাটেকে পুলিশে দিলো স্থানীয় জনতা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ভিতরবন্দের হিরার দক্ষিণ সুরমায় আবারও ‘রিজিক ফুডকার্ট’-এর বৈদ্যুতিক তার চুরি মশক নিধন কার্যক্রম চোখেই পড়ে না রূপগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে আতঙ্কে মানুষ রূপগঞ্জে সিটি গ্রুপের অটো রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ২ সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তাণ্ডব: আম্বরখানায় প্রতিবন্ধী কিশোরকে আহত করার অভিযোগ নাগেশ্বরীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুল হকের শুভেচ্ছা বার্তা

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না সিসিক প্রশাসকের সিএ ফয়জুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নেপথ্যে প্রকৌশলী রাজিউদ্দিন

আহমেদ আকবর, সিলেট দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি:

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) তথা নগর ভবন নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে সেখানে সেবা নিতে এসে হয়রানি ও অনিয়মের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নাগরিক। অভিযোগ রয়েছে, সিসিক প্রশাসকের কার্যালয়ের সিএ (চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট/পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ফয়জুর রহমানের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাইল ও আবেদন প্রশাসকের টেবিলে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে ফয়জুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিসিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকৌশলী রাজিউদ্দিনের সঙ্গে ফয়জুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৌশলী রাজিউদ্দিনের বিভিন্ন ঠিকাদারি ও দাপ্তরিক ফাইল প্রশাসকের মাধ্যমে অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফয়জুর ভূমিকা রাখেন। এর বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ফয়জুর রহমানের সম্পদ নিয়েও নগর ভবনে নানা আলোচনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিসিকের একজন কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন এবং শেয়ারবাজারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তার আয় ও সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি একাধিক নাগরিক অভিযোগ করেন, জরুরি আবেদন নিয়ে প্রশাসকের দপ্তরে গেলেও নানা আইনি জটিলতার কথা বলে তাদের অপেক্ষায় রাখা হয় কিংবা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার পর দ্রুত কাজ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ সুরমার এক বাসিন্দা বলেন, তিনি একটি জরুরি আবেদন নিয়ে প্রশাসকের দপ্তরে গেলে ফয়জুর রহমান বিভিন্ন জটিলতার কথা বলে তাকে ফিরিয়ে দেন। পরে অন্য একটি মাধ্যমে যোগাযোগ করে অর্থ দেওয়ার পর তার ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া বদলি, পদোন্নতি কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ফয়জুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, সিসিক প্রশাসকের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নাগরিক সেবা যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফয়জুর রহমান ও প্রকৌশলী রাজিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

নগরবাসীর দাবি, সিসিকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2026 shomoyerkhobor.com
Design & Developed BY starwebhostit