সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

বিজ্ঞাপন:
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম...
শিরোনাম :
রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ, কবিরাজি সেবার নামে টাকা নেওয়ার দাবি ভূরুঙ্গামারীতে স্কাউট কর্মীকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি জ্বালানি সংকটে রূপগঞ্জে আম্বার বোর্ড মিলস বন্ধ ঘোষণা, শ্রমিকদের ক্ষোভ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ১৫ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত ওসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১১৭ কোটি টাকার কদমতলী বাস টার্মিনাল এখন অব্যবস্থাপনার চাদরে সিলেটে মাজার-মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০ নাগেশ্বরীতে অরণ্যের উদ্যোগে ‘সবুজ উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম জেলা সাইবার দলের নতুন কমিটি অনুমোদন

দক্ষিণ সুরমায় কিশোর গ্যাং প্রধান অন্তরের ত্রাস: অধরা ‘রাঘববোয়াল’,

আহমেদ আকবর, সিলেট দক্ষিণ সুরমা :

লোকদেখানো অভিযানে ক্ষুব্ধ সচেতন মহল,  সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ক্বিন ব্রিজের প্রবেশদ্বার সংলগ্ন কদমতলী কুমিল্লা পট্টি এবং পার্শ্ববর্তী সুইপার কলোনি (মেথর পট্টি)  এলাকা এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কিশোর গ্যাং প্রধান, কুখ্যাত জুয়ার এজেন্ট ও পাইকারি মাদক ডিলার অন্তরের নেতৃত্বে এখানে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অপরাধ সিন্ডিকেট।

মাস খানেক আগে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, যুবসমাজ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে অন্তরকে আটক করা হলেও, জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে আরও দ্বিগুণ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।দৈনিক লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, নিজস্ব ‘লাঠিয়াল বাহিনী’অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার এই কুমিল্লা পট্টিতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার মাদক ও জুয়ার অবৈধ বাণিজ্য চলে। এই বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে এবং বড় বড় মাদকের চালান নিরাপদে ‘হ্যান্ডওভার’ করতে অন্তরের রয়েছে একটি নিজস্ব ‘লাঠিয়াল বাহিনী’।

এই বাহিনীর পেছনেই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করা হয়। এই লাঠিয়াল বাহিনীর মূল কাজই হচ্ছে জুয়ার আসর পাহারা দেওয়া এবং মাদক কারবারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।মসজিদের কাছেই অপরাধের নিরাপদ আস্তানা ‘মিনি কাষ্ঠঘর’স্থানীয়রা জানান,  ঐতিহ্যবাহী বারথখলা এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন করছে এই সিন্ডিকেট। বারথখলা জামে মসজিদের মাত্র ৩০ গজ দূরে অবস্থিত সুইপার কলোনিটি এখন অপরাধীদের কাছে ‘মিনি কাষ্ঠঘর’ নামে পরিচিত। এটি মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের সবচেয়ে নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ সুরমার যত বড় বড় অপরাধের সিন্ডিকেট, তার মূল নিয়ন্ত্রণ হয় এই কুমিল্লা পট্টি ও মেথর পট্টি থেকেই।প্রশাসনের অভিযান নিয়ে ‘আইওয়াশ’ ও ‘পেছনের দরজা’র অভিযোগএলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ সুরমার সচেতন নাগরিক ও মসজিদ বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা।

তাদের মতে, মাঝেমধ্যে প্রশাসন যে অভিযান চালায়, তা কেবলই ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মূল হোতারা যতক্ষণ অধরা থাকবে, ততক্ষণ শুধু রিকশাচালক বা চুনোপুঁটি ধরে মাদক ও অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। প্রশাসন সামনের দরজা বন্ধ করে অভিযান চালালে অপরাধীরা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।”আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর আকুতিস্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ‘বড় গাছের ছায়া’ (খুঁটির জোর) ছাড়া দক্ষিণ সুরমার বুকেই এত বড় মাদকের স্পট চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই এই ধরনের লোকদেখানো অভিযান বন্ধ করে, অপরাধের মূল হোতা কিশোর গ্যাং প্রধান অন্তরসহ পর্দার আড়ালের ‘রাঘববোয়ালদের’ অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, ধ্বংসের মুখে পড়বে এলাকার আগামী প্রজন্ম।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2026 shomoyerkhobor.com
Design & Developed BY starwebhostit