খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

এ মাসেই আরও পাঁচ স্প্যান পদ্মা সেতুতে : ‘পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে জিডিপি ২ থেকে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে’

স্বপ্ন ছোঁয়ার দ্বার প্রান্তে দক্ষিণ পশ্চিমা অঞ্চলের মানুষ

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২০:০০

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মূল কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কারো যেন দম ফেলার ফুসরত নেই । ১৬তম স্প্যান বসানোর মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে স্থায়ীভাবে বসলো ১৭তম স্প্যানটি। এ মাসে বসবে আরও পাঁচটি স্প্যান। আগামী বছর জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুর সব স্প্যান বসানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে কাজ। সবার চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। নিজেদের অর্থে নির্মাণ হচ্ছে দেশের দীর্ঘতম এই সেতু; এ গর্বে বুকটা ফুলে উঠছে সবার। বিশেষত্ব দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আনন্দ অনুভূতিটাই অন্যরকম। যেন স্বপ্ন ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পদ্মার এপাড়ের বিশাল জনগোষ্ঠী। অভাবনীয় অভূতপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে বঞ্চিত এ অঞ্চলে। 
একের পর এক স্প্যান বসানোয় দৈর্ঘ্য বেড়ে চলছে পদ্মা সেতুর। গাড়ি ও ট্রেনে চড়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবতার পথে। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে আরকিছু দিন পরেই। সাধারণ মানুষের স্বপ্নের কথা ভেবে এখন সেতুতে স্প্যান উঠছে সমান তালে। ১৬তম স্প্যান বসানোর মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে স্থায়ীভাবে বসলো ১৭তম স্প্যানটি।
পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকলে চলতি ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুতে বসবে আরও পাঁচটি স্প্যান। পদ্মা সেতুর পাঁচটি স্প্যান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। স্থাপনে বাধা শুধু নাব্য সংকট। উচ্চক্ষমতার ড্রেজারে রাত-দিন ড্রেজিং চলছে। যার মধ্যে তিনটি স্প্যান স্থায়ী আর দু’টি বসবে অস্থায়ীভাবে। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর সব স্প্যান বসানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে কাজ। এখন পর্যন্ত মূল সেতুর কাজে ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। ইনপুট বাড়িয়েছি, যাতে এটি পুরোপুরি করতে পারি। আমাদের টার্গেট- ডিসেম্বরে আরও পাঁচটি স্প্যান বসাবো। আগামী বছরের জুনের দিকে সব স্প্যান বসিয়ে দেব।
প্রকৌশল বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ছিল, অন্যদিকে নদীর তলদেশে বিরাট অংশজুড়ে জমেছে পলির স্তর। যে কারনে প্রাকৃতিক বৈরিতায় এতোদিন বন্ধ ছিল পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানো কাজ। বর্তমানে পলির স্তর কেটে মোটামুটি একটি পরিবেশ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় থাকলে এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে সেতু স্প্যান তোলা যাবে। 
এদিকে আরও চারটি স্প্যান কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে আছে ও একটি চর এলাকায় ২৮ নম্বর পিয়ারের কাছে মোট পাঁচটি স্প্যান সম্পূর্ণ রেডি অবস্থায় রাখা আছে। এ স্প্যানগুলো চলতি মাসের মধ্যে স্থাপন করা হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো শুরু হয়; আর সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর বসানো হল ১৭তম স্প্যান। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে সবক’টি পিলার দৃশ্যমান হয়েছে। আর দুই দফা প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. শাহনেওয়াজ নাজিমুদ্দিন আহমেদ সময়ের খবরকে বলেন, “পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে জিডিপি ২ থেকে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিবেশ বদলে যাবে। স্থবিরতা কাটিয়ে মোংলা বন্দর সচল হবে। দেশের সকল প্রান্তের সমন্বিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। এরই মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে আগ্রহীরা। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে অর্থনীতি চাঙা হবে। তবে পদ্মাসেতুর পুরোপুরি সুবিধা পেতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ও ফয়লায় বিমানবন্দর প্রকল্পটি সম্পন্ন হতে হবে। অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে। তবে পাইপ লাইনে গ্যাস না আসলে পদ্মাসেতুর পুরোপুরি সুফল পাবে না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসী। কোথাও গ্যাস উত্তোলন হলে তার দাবিদার দেশের ১৭ কোটি মানুষ। গ্যাসের সুষম বন্টন হওয়া উচিত।”


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ