খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬ |

বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

সড়ক দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ যানবাহনের ফিটনেসহীনতা। দীর্ঘদিন থেকেই এই ফিটনেসের বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হলেও কার্যত কিছুই হয়নি। গনমাধ্যমের খবর অনুযায়ী দেশে প্রায় সাড়ে চার লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি রয়েছে। আবার সনদ থাকলেই গাড়িটির সত্যিকারের ফিটনেস রয়েছে এমনটি মনে করার কারণ নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি রাজস্ব খাতে ফি জমার বিনিময়ে পাচ্ছে ফিটনেস। মানে টাকার বিনিময়ে মিলছে ফিটনেস। পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে গাড়ি না দেখেই মেলে ভৌতিক পরিদর্শন।
নিয়ম হচ্ছে, গাড়ির কারিগরি ও বাহ্যিক অন্তত ৬০টি বিষয় বিবেচনায় এনে ফিটনেস সনদপ্রাপ্তির কথা। বাস্তবতা হচ্ছে, বছর শেষে গাড়ি নবায়নে প্রথমে নেওয়া হয় ফি ও ট্যাক্সটোকেনের অর্থ। এর পর গাড়ি হাজির করার কথা বলা হয়। সে ক্ষেত্রে তদবির বা অবৈধ অর্থের মাধ্যমে গাড়ি না দেখিয়ে পরিদর্শকের সই নেওয়ার অভিযোগ আছে। বিআরটিএর সংশি¬ষ্ট সার্কেল অফিসে গাড়ি হাজির করলেও এক মিনিটের মধ্যেই সেরে ফেলা হয় পরিদর্শনপর্ব। নিয়মানুযায়ী এ ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ মিনিট সময় লাগার কথা। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের অজুহাত জনবল কম, গাড়ি বেশি।
গণমাধ্যম তো বটেই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে যে, বিআরটিএ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। অর্থের বিনিময়ে এখান থেকে সহজেই গাড়ির ফিটনেস সংগ্রহ করা যায়। আজকের অনিরাপদ সড়ক ও মৃত্যুর মিছিল বিচ্ছিন্ন নয় বরং বহু নৈরাজ্যের ফসল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নৈরাজ্যতন্ত্র এবং বেশুমার দুর্বৃত্তপনার কাছে সড়ক পরিবহন খাতের সব ব্যবস্থাপনা হেরে গেছে, তারই প্রতিচিত্র আমাদের সড়কে মৃত্যুর মিছিলগুলো।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বিআরটিএর ব্যবস্থাপনা দ্রুত উন্নত করা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি না থাকলে তার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা সম্ভব নয়। বিআরটিএর জবাবদিহি আছে সাধারণ মানুষের এই বিষয়ে আর আস্থা নেই। অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ