খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

শত শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও তিন প্রতিষ্ঠান

খুলনায় এনজিও এবং কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামে চলছে প্রতারণা : থামছে না গ্রাহকের কান্না

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১০:০০

খুলনায় এনজিও প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ সোসাইটি, ঋনদান সমবায় সমিতি ও মাল্টিপারপাস’র নামে একের পর এক প্রতারণা শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুরুতেই ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি উধাও হচ্ছে এ সকল প্রতিষ্ঠান। ভূঁইফোড় এ সকল প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতারিত হওয়া মানুষের হাহাকার দিন-দিন বেড়েই বাড়ছে। গত ৩ বছরের ব্যবধানে খুলনায় গড়ে ওঠা কয়েকটি সংস্থা ও সোসাইটির প্রধানসহ তাদের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন। এতে খুলনাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০টি মামলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে সর্বশান্ত ওই গ্রাহকদের মধ্যে অনেকেই তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে ওই সকল প্রতিষ্ঠানে আয়ের অধিকাংশ টাকা ভবিষ্যতের জন্য জমা রেখে আজ সর্ব-নিঃস্ব।    
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সুদমুক্ত বিনিয়োগের কথা বলে মুফতি গোলাম রহমান এবং রশিদ আহমাদ নামের দুইজন খুলনায় ‘এহসান সোসাইটি’র নামে ১০ সহস্রাধিক গ্রাহকের প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রাহকের সাড়ে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এহসান সোসাইটির দিঘলিয়া থানা সমন্বয়কারী মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ১৯ জুন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সংস্থার কেন্দ্রীয় শরীয়াহ কাউন্সিলের সহ-সেক্রেটারি ও খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মুফতি গোলাম রহমান, খুলনা জেলা সমন্বয়কারী ও নগরীর ডালমিল মোড়স্থ মক্কি মসজিদের ইমাম মুফতি রশিদ আহমাদ এবং খুলনা শাখার ম্যানেজার (মুফতি গোলাম রহমানের ভাগ্নে) রবিউল ইসলামকে আসামি করা হয়। এছাড়াও পরবর্তিতে এ সোসাইটির কর্মকর্তাদের নামে আরও বেশ কয়েকটি মামলা করেন গ্রাহকরা। 
২০০৪ সালে খুলনাসহ আশপাশের জেলায় কার্যক্রম শুরু করে ‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’। সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ খবিরুজ্জামান ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ সরোয়ার হুসাইন। খুলনার জিরোপয়েন্টে নিজস্ব বহুতল ভবনসহ আশপাশের জেলা উপজেলায় নিজস্ব জমি ও শাখা অফিস ভবন নির্মাণের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেন। শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, সাধারণ মানুষকে শীতকালীন পোশাক বিতরণসহ নান ধরনের সামাজিক কাজেও অংশ নিতো এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করেই এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোঃ খবিরুজ্জামান ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ সরোয়ার হুসাইন গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাত করে আত্মগোপন করেন। বন্ধ হয়ে যায় প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা পর্যায়ের শাখা অফিসগুলো। ওই সকল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আত্মগোপনে চলে যায়। 
হাজার-হাজার গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার গ্রাহকরা আদালতে ও থানায় মামলা ঠুকতে শুরু করেন। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, এমডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মামলা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোঃ খবিরুজ্জামান ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ সরোয়ার হোসাইন কারাগারে রয়েছেন।   
তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু সাঈদ বলেন, চলন্তিকা যুব সোসাইটির চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামান আত্মসাৎ করা টাকা নিজের পরিবার ও সন্তানদের খরচ দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছেন। আর চলন্তিকার নামে কেনা জমি নিজ নামে নিবন্ধন করেছেন। ২০০৪ সাল থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রতারণা করে চলন্তিকার নামে আদায় করা টাকা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে স্থানান্তর ও রূপান্তর করেন। 
এদিকে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর খুলনার সেফ ইসলামী গ্র“পের সহযোগি প্রতিষ্ঠান সেফ ইসলামী ব্যবসায়ী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’র গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন কর্মকর্তারা। সোসাইটির সভাপতি মোখতার হুসাইন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুজাহিদ কমিটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব পদে রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ইসলামী যুব আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য।  তাদেরকে ওই পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে দলীয়  সূত্রে জানা গেছে। গত ২৮ নভেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানের ১২২ জন গ্রাহক আদালতে এই প্রতিষ্ঠানের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা দায়ের করেন (নং-দেওয়ানী ৪৩১/১৯)। প্রতিষ্ঠানের এবং এ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে কেন নিষিধাজ্ঞা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আদালত। গত ২ ডিসেম্বর খুলনার যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোঃ আশরাফ উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন। 
মামলার আরজিতে বলা হয়, সেফ ইসলামী গ্র“প লিমিটেড’র অঙ্গ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন মূল্যমানের শেয়ার বিক্রি এবং এককালীন সঞ্চয়ী আমানত গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করেছেন। এ কারনে প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকর্তা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে সকল ধরনের ব্যাংক একাউন্ট, জমি-জমাসহ সকল প্রকার সম্পত্তির অন্যত্র হস্তান্তরের ওপরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গ্রাহকরা আবেদন করেছেন। ১২২ জন গ্রাহক একশ’ কোটি টাকা পাওনা রয়েছেন বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়। 
এদিকে মামলা দায়ের ও গ্রাহকদের ছুটোছুটির পর তাদের শত-শত কোটি টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই অডিও বার্তাটি খুলনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কন্ঠে ১০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই অডিও বার্তায় বলা হয় তারা বাধ্য হয়ে আত্মগোপন আছেন। তবে ওই কন্ঠ কার তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২











ব্রেকিং নিউজ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২







খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০