খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬ |

চিকিৎসক ও ওষুধ কোম্পানির  অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা জরুরি

০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

চিকিৎসক ও ওষুধ কোম্পানির  অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা জরুরি

কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হু হু করে বাড়ছে দেশীয় ওষুধের দাম। ওষুধের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকারি নির্দেশনা ও নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না কোম্পানিগুলো। দেশে ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচারে বিধি নিষেধ থাকলেও কোম্পানিগুলো নিজেদের ওষুধের বাজার ধরতে ডাক্তারদের প্রভাবিত করতে নানা ধরনের অনৈতিক উপায় অবলম্বন করছে। ওষুধ কোম্পানির কমিশন, উপঢৌকন, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা ধরনের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ডাক্তাররাও ব্যবস্থাপত্রে অপরীক্ষিত, অননুমোদিত ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের নাম লিখে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস থেকে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 
‘বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বিআইডিএসের এই প্রতিবেদনে ওষুধ কোম্পানিগুলোর সাথে ডাক্তারদের অনৈতিক লেনদেনের বিস্তারিত উঠে আসে। দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর বার্ষিক টার্নওভার ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর শতকরা ২৯.৩৬ ভাগ বা ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বিপণন ব্যবস্থার অনৈতিক চ্যানেলে খরচ করা হচ্ছে বলে বিআইডিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের কমিশন এবং ওষুধ কোম্পানির এমআরদের মাধ্যমে নানা রকম উপহার সামগ্রী প্রদানের কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু বাসায় ফ্রিজ পাঠানো, ফ্ল্যাট বা গাড়ির মত লাখ লাখ টাকা মূল্যের উপঢৌকন ও সপরিবারে বিদেশ ভ্রমণের মত খরচের হিসাব ধর্তব্যের বাইরে। এভাবেই বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করছে ওষুধ কোম্পানিগুলো।
দেশীয় ওষুধ কোম্পানীর অনৈতিক বিপণন ব্যবস্থার সাথে তাল মিলাতে না পেরে বিদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রায় ৬ দশক ধরে বাংলাদেশে ওষুধ বিপণন ও উৎপাদনের সাথে জড়িত ফরাসি ওষুধ কোম্পানি সানোফি সম্প্রতি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। এই লাভজনক বড় ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক বিপণন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো যেভাবে চিকিৎসকদের ঘুষ দেয়াসহ বিপণনের জন্য বিপুল ব্যয় করে থাকে তা অনৈতিক ও বৈশ্বিক বিপণন নীতির পরিপন্থী হওয়ায় তারা এভাবে বাজার ধরে রাখার প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা জানিয়েছে। 
সহযোগী বিদেশি কোম্পানির কাছে দেশের ওষুধ কোম্পানির এই বিপণন ব্যবস্থা তাদের নীতি বিরোধী বা অনৈতিক মনে হলেও আমাদের ওষুধ প্রশাসন বা সরকারের সংশ্লিষ্টদের যেন তাতে কোনো মাথাব্যথা নেই। এ ধরনের অনৈতিক বিপণন ব্যবস্থায় ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের পেছনে বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মাশুল আদায় করা হচ্ছে ক্রমাগত ওষুধের মূল্য বাড়িয়ে।  ফলে ওষুধের মান এবং বিপণন নীতির সাথে আপস না করা নামি-দামি ওষুধ কোম্পানির বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে বিপাকে পড়ছে দেশের লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ