খুলনা | রবিবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সবাই মানুষ, প্রতিবন্ধীরাও মূলস্রোতে একসঙ্গে চলবে : প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৯:০০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিকরা যেন আমাদের মূলস্রোতের সঙ্গে মিলিয়ে থাকতে পারে, জনগোষ্ঠীর সঙ্গে থাকতে পারে, এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আমরা চাই দেশের উন্নয়ন। এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ তারা যেন কোনোভাবে পিছনে পড়ে না থাকে। কারণ সবাই মানুষ, আমাদের সবাই একসঙ্গে চলবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে ২৮তম আন্তর্জাতিক ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স সুবর্ণ ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি এসব কথা বলেন।
সুবর্ণ ভবনে প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, আবাসিক সুবিধা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধন ঘোষণা শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিল্পীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতি পরিবেশনা উপভোগ করেন।
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে সরকার প্রতিবছর মর্যাদার সঙ্গে দিবসগুলি পালন করে উল্লে¬খ করে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব পারসন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটি’ (সিআরপিডি) চুক্তিতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন মূলনীতি লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড অর্থাৎ কেউ পিছনে পড়ে থাকবে না। সকল নিয়েই করতে হবে। এই অনুযায়ী আমরা দেশের সকল প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া ২০১৯-২০ মেয়াদে জাতিসংঘের হিউম্যানন্ডার্স কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাতেও কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে এ ব্যাপারে কোনো সচেতনতা ছিল না। আজকে আর সে অবস্থা নেই। এখন মানুষ যথেষ্ট সচেতন। অটিজম সব সময় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা মানুষের কাছে এই কথাটাই বোঝাতে চাই, অটিজম বা প্রতিবন্ধীতা এটা কোনো অসুস্থতা না, কোনো রোগও না। একটা মানুষ হয়তো জন্মগ্রহণ করেছে, এটা এখন কি কারণে অটিজম হয়। সেটা এখন পর্যন্ত সেভাবে কিন্তু আবিষ্কার হয়নি বা গবেষণা চলছে। আবার প্রতিবন্ধীতা অনেক সময় জন্মগণ হয় অনেক হয় এ্যাক্সিডেন্টে হয় পাশাপাশি নানা কারণে অসুস্থতা হয়। অনেক কারণে হয়। আগে পোলিও হলে অনেকে প্রতিবন্ধী হত। আজকে বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত। আমরা যেহেতু পোলিও ভ্যাকসিন দিচ্ছি যার ফলে আমরা সেটা করতে সক্ষম হয়েছি। সেভাবে আমরা চেষ্টা করি।
বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে সব থেকে যেটা প্রয়োজন আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। আমরা ছোটবেলা থেকেই পড়েছি, কানাকে কানা বলিও না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না। এই শিক্ষাটা একেবারে ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্কুলের যারা ছোট বাচ্চা তাদেরকে দিতে হবে।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছি উল্লে¬খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফাউন্ডেশনটা থাকলে সুবিধা হল, এখানে সামাজিক ক্ষেত্রে অনেকে বিভিন্ন অনুদান দেয়। অনেকে অবদান রাখে। আন্তর্জাতিকভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এই ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা করে। শুধু আর্থিক সহযোগিণা না, সারাবিশ্বে এখন নানা ধরনের চিকিৎসা, অথবা ট্রেনিং অর্থাৎ একজন প্রতিবন্ধী যেন নিজে চলতে পারে, তাকে একটা বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়। এটা পৃথিবীর অনেক দেশে চালু আছে। এই ধরনের ট্রেনিং দেওয়ার সুযোগ এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আনা যায়। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার ৩৯টি উপজেলায় মোট ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্য কেন্দ্র চালু হয়েছে, সেটা আমরা প্রতিটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বগুড়ার এমপি আব্দুল  মান্নান আর নেই

বগুড়ার এমপি আব্দুল  মান্নান আর নেই

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:০০






ব্রেকিং নিউজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০২