খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৪:০০

ইসলাম মহান আল্লাহ তায়ালার দেয়া এক জীবন ব্যবস্থার নাম, যার বিধি বিধান আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। ভারসাম্য জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ‘ইসলাম’ বিশে^র বুকে ব্যাপকতা ও সর্বজন স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর প্রচার ও প্রকাশ বিশ^ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইসলাম মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে সক্ষম হয়েছে। 
ইসলাম একটি আরবী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে শান্তি অথবা আত্মসমর্পণ। স্বীয় ইচ্ছাকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করা। পরিভাষায় বলা হয়, ‘আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পন ও আনুগত্যের সাথে তার বিধান মেনে চলা, মুখের স্বীকারোক্তিকে ও ইসলাম বলা হয়’। এর সূচনা মুখ থেকে আর সমাপ্তি ঘটে অন্তরে গিয়ে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দীন (সূত্র: আল ইমরান : ৩:১৯)’। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করলে তা কখনো কবুল করা হবে না। নবী করিম (সাঃ) বলেন, ‘ইসলাম হল, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল বলে স্বাক্ষ দেয়া, সালাত আদায় করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা পালন করা এবং যাতায়াতের সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্ব আদায় করা (বুখারী ও মুসলিম)’। বস্তুত ইসলামই সকল নবী রাসূলের অভিন্ন ধর্ম। হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত আগমনকারী সকল নবী রাসূলগণই মানুষকে ইসলামের দিকেই আহ্বান করেছেন এবং এরই ভিত্তিতে নিজ নিজ উম্মাতকে গড়ে তুলেছেন। 
(১) ইসলাম ধর্মের মর্ম হল, আল্লাহর পরিপূর্ণ আনুগত্য করা। আর প্রত্যেক পয়গম্বরই যেহেতু নিজে আল্লাহর পূর্ণ অনুগত থাকার সাথে সাথে উম্মাতকে ও এর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, তাই সকল নবীর দ্বীনই ইসলাম। 
(২) ইসলাম সাতটি বিষয়ের উপর বিশ^াস স্থাপন করে, মহান আল্লাহর প্রতি, ফিরিস্তাগণের প্রতি, নবী রাসূলের প্রতি, আসমানী কিতাবের প্রতি, পরকালের প্রতি, তাকদিরের প্রতি, ভালো-মন্দের প্রতি। 
(৩) ইসলাম ধর্ম প্রথমত ঈমানের উপর নির্ভর করে, আমরা আল্লাহকে দেখি নাই, ঈমান এমন বিষয় যা গননা করা যায়না, মাপা যায়না, আন্দাজ করা যায়না, অথচ অনেক মূল্যবান জিনিস, যার ঈমান নেই তার কিছুই নেই। যার ঈমান শেষ তার সব কিছুই শেষ। তাই ইসলাম ধর্মে ঈমানের উপর অধিক নির্ভরশীল। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, ‘যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি আর নেক আমল করে, তাদের রবের নিকট থেকে তাদের জন্য রয়েছে পুরষ্কার। আর তাদের কোনো ভয় নেই, চিন্তাও নেই (সূরা : বাকারাহ, আয়াত নং ৬২)’। 
(৪) ইসলামের দ্বিতীয় শোভা ও ইবাদত হল, সালাত বা নামাজ, যা আদায় করা ফরজ। মহান আল্লাহ ও তার বান্দার সাথে যোগসূত্র তৈরী করে, আনুগত্যের শ্রেষ্ঠত্বতা প্রকাশ করে, আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে, নিজের কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে, সমাজে শান্তি স্থাপনে সহায়তা করে, সময়ানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ প্রদর্শন করে, সালাত দৈহিক সুস্থতা আনে, মানুষের জন্য নামাজ হলো এক উত্তম ব্যায়াম, এই ব্যায়াম যেমন বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কারণ, তেমনি অভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন হৃৎপিন্ড, যকৃত, মূত্রাশয়, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, নাড়ি-ভূঁড়ি, পাকস্থলী, মেরুদন্ড, গর্দাণ, সীনা ও সর্ব প্রকার বধিত করে শরীরকে সুঠাম ও সৌন্দর্যময় করে তোলে। সর্বপরি সালাত বা নামাজ মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার মহা ওষুধ হিসেবে কাজ করে। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, ‘আর তোমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত দাও, যেসব নেককাজ তোমরা নিজেদের কল্যার্নাথে এখানে (দুনিয়ার জিন্দেগীতে) করবে তার সবটুকুর প্রতিফলই আল্লাহর কাছে পাবে (সূরা : বাকারাহ, আয়াত নং ১১০)’।
(৫) যাকাত দানে মাল পবিত্র হয়। ইহা মুমিনদের কাছে অত্যান্ত পছন্দীয়। যাকাত সম্পদের মো ও লোভ নির্মূল করে। সচ্ছল ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনের সহযোগিতা করে। সমাজে ধনী ও গরীবের সম্পর্ক সুদৃঢ় করে। যাকাত সহনুভূতি, মৌলিক অধিকার পূরণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য নির্মূল সহ কর্মসংস্থান, ভিক্ষাবৃত্তি ঋণ মুক্তি, জাতীয় আয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়তা করে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে যাকাত তোমরা দাও, তাই বৃদ্ধি নয়। অতএব (যারা যাকাত দেয়) তারাই দ্বিগুণ লাভ করে (সূরা রুম : আয়াত নং ৩৯)’। 
(৬) ইসলামের সাওম মানুষের আত্মশুদ্ধি করে এবং রিপু দমনে সহায়তা করে, ব্যক্তির তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে, সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য সচেতনার শিক্ষা প্রদান করে। কুরআনের ভাষায়, ‘হে ইমানদার গণ! তোমাদের জন্য রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতগণের উপর। আশা করা যায় তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ ও বৈশিষ্ট্য জাগ্রত হবে (সূরা বাকারাহ, আয়াত নং ১৮৩)’। 
(৭) ইসলামে হজ্ব একটি আন্তর্জাতিক বিশ^ সম্মেলন, যা জাতীয় ঐক্য সংহতি পেশ করে। সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক তৈরী করে, শৃঙ্খলার প্রশিক্ষণ সহ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্যাগের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হয়। নবী করিম (সাঃ) বলেন, ‘হজ্ব ও উমরাহ পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। যদি তাঁকে ডাকে, তিনি তাদের জবাব দেন আর যদি তাঁর নিকট ক্ষমা চায় তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন (সুপানে ইবনে মাযাহ্)’। (বাকি অংশ পরবর্তী দিবসে)


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৩০



আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯


ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮





ব্রেকিং নিউজ