খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬ |

ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

বর্তমান নাগরিক জীবনে সচেতন মানুষমাত্রই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। ব্যস্ত জীবনে তাই ইন্টারনেট ছাড়া চলা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ছে আমাদের জন্য। কারণ ইন্টারনেট আমাদের সামনে আজ অসীম তথ্যভান্ডারের দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে মুঠোফোনে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর বড় একটা অংশ জুড়ে রয়েছে ফেসবুকে। এখন শুধু একটি নির্দিষ্ট বয়সের মানুষই ফেসবুক ব্যবহার করেন না। বরং এখন অপ্রাপ্ত বয়সের মানুষ থেকে শুরু করে সবাই যার যার প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন ফেসবুককে মাধ্যম করে। অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুকের কারণে সমাজে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটছে। 
আলোর নিচে যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি ফেসবুকের কিছু অপব্যবহারও রয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে কটূক্তিমূলক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহান উদ্দিনে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও ফেসবুকে কটূক্তিমূলক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে ইদানিং আরও একটি বিষয় আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তা হলো আমাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ফেসবুক ব্যবহার। এদের ইন্টারনেট ও ফেসবুকের প্রতি অতি আসক্তি রীতিমতো ঝুঁকি তৈরি করছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, ইন্টারনেট আমাদের সবার কাছে অসীম তথ্যভান্ডার যা আমাদের সন্তানদের জন্য যেমন শিক্ষা ও বিনোদনের দ্বার উন্মোচিত করেছে, তেমনি ফেলেছে অস্বস্তিতেও। এখন আমরা আমাদের কর্মব্যস্ততার কারণে আমাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছি মোবাইল ফোন। এর পেছনে রয়েছে অনেকগুলো ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে কর্মজীবী পিতা-মাতা যেন তাদের সন্তানদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখতে পারেন। এ ছাড়া দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার। যাতে তারা দ্রুত পৃথিবী সম্পর্কে জানতে পারে। এতে একদিকে সন্তানের মানসিক বিকাশ যেমন হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করতে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু নেতিবাচক কিছু কর্মকান্ডে এসব অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে জড়িয়ে পড়ায় উঠেছে প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটের অপব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীসহ নানা বয়সী মানুষ আজ অনেকটা হুমকির মুখে। বিশেষ করে প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারে সমাজে বাড়ছে ধর্ষণ, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। তারা ফেসবুকে যা ইচ্ছা লিখছে, শেয়ার করছে। ফেসবুক ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য সামাজিক মাধ্যম। এসব সাইটে সম্পৃক্ততা তাদের নানাবিধ ঝুঁকিতে ফেলছে। অকারণে অপরিচিত মানুষ আপন হয়ে নানা ক্ষতিসাধন করছে। অপরাধের পথে পা রাখতে উৎসাহিত করছে। তাদের ব্যবহার করছে টোপ হিসেবে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে সারা দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একটি বড় অংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। আর সাইবার অপরাধের দিকে এখন বেশি ঝুঁকছে ১৮ বছরের কম বয়সীরা। এর কারণ আর কিছুই নয়, এই বয়সটা আসলে ভীষণভাবে রোমাঞ্চমুখী। ফলে তারা অগ্র-পশ্চাৎ না ভেবেই ভুল পথে পা রাখে। এটা সত্যিই আমাদের জন্য শঙ্কার কথা। তবে শুধু যে অপ্রাপ্তবয়স্করা ফেসবুকের অপব্যবহার করছে তা কিন্তু নয়। অনেক সচেতন মানুষও যা খুশি লিখছে ফেসবুকে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক উস্কানিমূলক লেখাও। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে সমাজ ও রাষ্ট্রে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এই অবস্থার অবসানের জন্য এখনই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন ফেসবুক ব্যবহারের সীমারেখা টানার। ফেসবুকে কটূক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়া বন্ধ করতে হলে ফেসবুককে একটি নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে। কোন বয়সী মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে, কারা পারবে না তা থাকতে হবে নীতিমালার মধ্যে। থাকতে হবে রেজিস্ট্রেশন। বিশেষ করে অপ্রাপ্ত বয়স্করা যেন ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়টির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর কী ধরনের স্ট্যাটাস দেওয়া যাবে, যাবে না তাও উল্লেখ থাকবে সেখানে। তবে ফেসবুকের অপব্যবহার অনেকটা কমে আসবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন

রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন

১৮ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:২০