খুলনা | শনিবার | ২৫ জানুয়ারী ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সংসদে পেশ শিগগিরই

অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানে ভারতের মন্ত্রিসভায় বিল অনুমোদন

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪১:০০

বহু আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষে আনা ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল’ অনুমোদন দিল ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী সপ্তাহে এই বিল সংসদে পেশ করা হবে। তবে বিরোধীরা এই বিলটিকে মুসলমানদের বাদ দেওয়া নিয়ে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের খসড়া পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া অ-মুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিলটি আগামী সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপন হবে বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আনন্দবাজার অনলাইন ।
এই বিল প্রসঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী রাজনাথ সিং বুধবার বিজেপির এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের এই বিলটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই বিলে নির্বাচিত বিভাগগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের ছাড় দেওয়ার জন্য বিদ্যমান আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন পার্লামেন্টে এই বিল উপস্থাপন করবেন সেই সময় বিজেপির সব এমপিকে পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। 
তিনি বলেন, প্রতিবেশী ধর্মান্ধ দেশগুলোতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে, তারা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি এই ৬টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের সর্ব ধর্ম সমন্বয়কে প্রমাণ করে। তবে বিলে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা মুসলমানদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ধর্মের ভিত্তিতে কেন ওই ভেদাভেদ, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে বেশির ভাগ বিরোধী দল।
বুধবার বিলটি পাসের আগের দিন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছিলেন, এ মুহূর্তে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে নাগরিকত্ব বিলটি। এ বিল জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
বিলটিতে মুসলিমরা না থাকায় এটি সাম্প্রদায়িক বলে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এ বিল আগেও একবার পার্লামেন্টে পেশ করা হলেও আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেটি পাস করানো যায়নি।
কংগ্রেস এমপি শশী থারুর বলেন, ‘আমি এই বিলের বিরোধিতা করছি। এটি মূলত গণতন্ত্রের ধারার বিরোধী। আমি আমার জন্য কথা বলছি। আমরা কেবল ধর্মের ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করতে পারি না।’
জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) ফলে আসামে ও পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের মধ্যে প্রবল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিজেপির নেতারা মনে করছেন, এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের উপ-নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। দ্রুত এ নিয়ে সংশয় কাটাতে এই বিলটি নিয়ে আসতে চাইছে তারা।
সম্প্রতি রাঁচিতে এক সভায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে পুরো দেশে এনআরসি তৈরি করবে সরকার। চিহ্নিত করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের।
এর আগে ২০১৬ সালে বিজেপির বন্ধু অসম গণপরিষদ (এজিপি) লোকসভায় এই বিলটির বিরোধিতা করেছিল। এমনকি এর প্রতিবাদে ক্ষমতাসীন জোট সরকার থেকেও বেরিয়ে আসে তারা। বিলটি তখনকার মতো বাতিল হয়ে গেলে এজিপি ফিরে আসে জোটে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












বিজেপি নতুন সভাপতি জেপি নাড্ডা

বিজেপি নতুন সভাপতি জেপি নাড্ডা

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ












খুলনায় অস্থির চালের বাজার

খুলনায় অস্থির চালের বাজার

২৫ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:১৫