খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে প্রমাণিত, বিভাগীয় মামলা  

খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১০:০০

খুলনা জেলা পরিষদের প্রাক্তন প্রধান সহকারী মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উন্নয়নমূলক কাজের সিডিউল বিক্রি ও টিএ বিলের অন্তত ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া খেয়াঘাট ইজারায়ও করা হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। এসব অর্থ লুটপাট ও অনিয়ম করা হয় ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ ৪ বছর ধরে। চলতি বছর জুলাইয়ে খুলনা স্থানীয় সরকার বিভাগের অডিটে এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। যার প্রেক্ষিতে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে। 
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির আইন, ২০০০ অনুযায়ী জেলা পরিষদকে বিভিন্ন কার্যাবলী সম্পাদন করতে হয়। তার মধ্যে জেলার সকল উন্নয়ন কার্যক্রম, উপজেলা ও পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা। রাস্তাঘাট, ব্রীজ, পুল-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ মেরামত ও সংস্কার করা। দরিদ্র নিরসন সংক্রান্ত (রিকশা-ভ্যানগাড়ি বিতরণ) প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, নারীর উন্নয়ন সংক্রান্ত সেলাই প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। আত্মকর্মসংস্থান, জীবন মান উন্নয়ন ও সচেতনতা সংক্রান্ত (কম্পিউটার প্রশিক্ষণ) কার্যক্রম, ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং জাতীয় কর্মসূচি খাতে অনুদান প্রদান। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান, গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের এককালীন বৃত্তি প্রদান, অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও আর্থিক সাহায্য প্রদান। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে পাঠাগার স্থাপন, ভাষা শহিদ ও বীরশ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগার ও জাদুঘর সংস্কার, স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার নির্মাণ ও সংস্কার। বিভিন্ন উপজেলায় ডাকবাংলোর মাধ্যমে সেবা প্রদান, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীনদের মাঝে গৃহ নির্মাণ, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী ল্যাট্রিন নির্মাণ, আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের লক্ষে গভীর নলকূপ স্থাপন ও পুকুর সংস্কার। জাতীয় দিবসগুলোতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণসহ তা প্রতিপালন করা ইত্যাদি। এর মধ্যে রাস্তাঘাট, ব্রীজ, পুল-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জাদুঘর, স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার নির্মাণ, মেরামত  ও সংস্কার, গভীর নলকূপ স্থাপন, পুকুর সংস্কার ও দরিদ্র নিরসন সংক্রান্ত (রিকশা-ভ্যানগাড়ি বিতরণ) কাজগুলো টেন্ডারে মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
জানা গেছে, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন উন্ননমূলক কাজের সিডিউল বিক্রি বাবদ ২৩ লাখ টাকা ও টিএ বিলের লক্ষাধিক টাকা ওই সময়ে সংস্থায় কর্মরত প্রাক্তন প্রধান সহকারী মোঃ মিজানুর রহমান আত্মসাৎ করেন। এছাড়া পরিষদ নিয়ন্ত্রণাধীন রূপসার তালিমপুর ও নেহালপুর, দিঘলিয়ার ভট্টাচার্য-শোয়ালপুর-চন্দনীমহল, সদরের কালীবাড়ি ও কাস্টমঘাট, ডুমুরিয়ার শরাফপুর, বটিয়াঘাটার মাথাভাঙ্গা, দাকোপের সদর ও চালনা, পাইকগাছার বোয়ালিয়া এবং কয়রার চৌধুরী ও মঠবাড়িয়া খেয়াঘাট ইজারায় ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। চলতি বছর জুলাইয়ে খুলনা স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি অডিটে এ ধরনের তথ্য উঠে আসে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়। যার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন সহকারী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে (নং-১/২০১৯)। এছাড়া আত্মসাৎকৃত অর্থ জমা প্রদানের জন্য নোটিশ প্রদান করলে মিজানুর রহমান গত ১৮ নভেম্বর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ইউসিবি ব্যাংক লিমিটেড খুলনা শাখায় আট লাখ টাকা জমা প্রদান করেন। অবশিষ্ট টাকা জমাদানে দুই মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত করেছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। সেখানে অভিযোগের সত্যতা মেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদও আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। 
তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, প্রাক্তন প্রধান সহকারী মোঃ মিজানুর রহমান টাকা আত্মসাত করেছেন। তাকে টাকা ফেরতও দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ লাখ টাকা ফেরত নেয়া হয়েছে। বাকি টাকা জমা দিতে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। কোন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। কেউ দুর্ণীতি করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ