খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আবাসন ও খাবার সংকটে শিক্ষার্থীরা যাতায়াতসহ নানা সমস্যা

এন আই রকি | প্রকাশিত ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১০:০০

চলতি বছরের এপ্রিলে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) শুরু হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্স এবং এগ্রিকালচার অনুষদে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস নিয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু দূর-দূরন্ত থেকে পড়তে আসা এসব শিক্ষার্থীরা পড়েছেন আবাসন ও খাবার সংকটে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবহনের কারণেও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। এদিকে এখনও অবধি শিক্ষার্থীদের আবাসন বা হলের কোন ব্যবস্থা করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি বছরের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। 
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুতে ২টি অনুষদে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। যার মধ্যে ২২ জন ছাত্রী এবং ৩৮ জন ছাত্র রয়েছে।  এসব শিক্ষার্থীরা খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, পিরোজপুর, নীলফামারী, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, চাঁদপুর, কুমিল্লা, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, বগুড়া জেলার বাসিন্দা। নগরীর দেয়ানা মধ্যপাড়ায় দৌলতপুর কলেজিয়েট স্কুল ভবনে দোতলা এবং তিনতলা ভাড়া নিয়ে খুকৃবি’র শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ায় অনেকে শিক্ষার্থীই এর আশেপাশে বিচ্ছিন্নভাবে থাকতে শুরু করেন। ছাত্রদের তুলনায় বিপাকে আছেন ছাত্রীরা। যদিও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে ২টি ছাত্রী হল (প্রতিটি ১ হাজার ছিট) এবং ২টি ছাত্র হল (প্রতিটি ১ হাজার ছিট) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে সব কিছুই থমকে রয়েছে।  
ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আমিন আল মারুফ বলেন, আপাতত আমরা অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পাশে একটি ফ্লাটে ৪ জন মিলে থাকছি। সকল ভাড়া আমরা বহন করি। খাওয়া দাওয়ার জন্য একটি বোয়া (গৃহকর্মী) রাখা হয়েছে, সেই রান্না করে দেয়। তবে জানুয়ারি মাস থেকে হয়ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হোস্টেলের ব্যবস্থা করবে বলে শুনেছি। 
একই বিভাগের ছাত্রী রুমানা ইসলাম কনক বলেন, আমরা ৩ জন একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে নিজেদের খরচ দিয়েই থাকি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব সময়ই খোঁজ খবর নেন। এখানে কোন ধরনের ইভটিজিং বা অপরাধ কর্মের সম্মুখীন হতে হয়নি। তবে হোস্টেলে থাকলে রান্নার ঝামেলা থাকত না। কিন্তু যেহেতু আমরা সকাল থেকেই বিকেল পর্যন্ত ক্লাস করি তাই নিজেদের রান্না নিজেরাই করে নেই। কারণ বাসায় না থাকলে বোয়া দিয়ে রান্না করানোটা ঝুঁকিপূর্ণ। 
এগ্রিকালচার অনুষদের ছাত্রী কামরুন নাহার মুন্না বলেন, ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিকে আমার বাবা গাইবান্ধা না গিয়ে আমার সাথেই এখানে থাকত। আমি বিশ্ববিদ্যালয় পাশেই থাকতাম। পরবর্তীতে আরেকজন ছাত্রীকে পাওয়ার পর আমার বাবা চলে যান। তিনি বলেন, আপাতত আমরা ২ জন দু’টি রুম নিয়ে থাকি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত হোস্টেলের ব্যবস্থা করছেন। 
এছাড়াও একাধিক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ছাত্রদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটে হল নেওয়া হবে বলে তারা জেনেছেন। তবে ছাত্রীদের জন্য নগরীর বয়রা এলাকায় হল নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত হল না থাকায় খাওয়া ও থাকতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, আপাতত কোন স্থায়ী হলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছাত্রদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় হল নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ছাত্রীদের জন্য নগরীর বয়রা এলাকায় একটি হোস্টেল দেখা হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আনা ও নেওয়া করা হবে। পাশাপাশি ছাত্রদের সপ্তাহে ২ দিন পরিবহনে (বাস) করে নগরীর নিউমার্কেট বা ফেরীঘাট এলাকায় ৩ ঘন্টার বিরতিতে আনা-নেওয়া করা হবে। এতে করে ছাত্ররা বিনোদনেরও সুযোগ পাবেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ