খুলনা | শুক্রবার | ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

পুলিশের ভয়ে টিকিট কেটে রোগী সেজে করছে প্রতারণা

কৌশল পাল্টে আবারও বেপরোয়া খুমেক হাসপাতালের দালালরা

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ০১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২০:০০

কৌশল পাল্টে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দালালরা। বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে আন্তঃবিভাগ সব জায়গায় সক্রিয় এসব দালাল। প্রধান টার্গেট খুলনার বাইরে থেকে আসা নারীরা। অনেক চিকিৎসকের রুমে এটেনডেন্ট-এরও কাজ করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা। গত দুই বছরে শতাধিক দালাল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কয়েক দিনের সাজা খেটে আবারও ফিরেছে পুরনো পেশায়। তবে গ্রেফতার এড়াতে এরা সকালে হাসপাতালে এসেই ১০ টাকা দিয়ে একটি টিকিট কেটে নিজে রোগী সাজে। এরপর দালালদের চলে দিনভর রোগী ভাগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা। হাসপাতালের চারপাশে দালাল বিরোধী মাইকিং হলেও আউটডোরে কৌশল পাল্টে এসব দালালদের আগের তুলনায় তৎপরতা আরও বেড়েছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুমেক হাসপাতালের সামনে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। রোগী ধরার জন্য শতভাগ দালাল নির্ভর এসব প্রতিষ্ঠানের দালাল চক্র হাসপাতালের মেইন গেট থেকে শুরু করে ভেতর পর্যন্ত চার স্তরের প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে। কোন না কোন ফাঁদে পড়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা হচ্ছেন সর্বশান্ত। এদের প্রথম টার্গেট হাসপাতালের মেইন গেট। ঢুকতেই বোরকা পরা মহিলাদের মধ্যে কে দালাল তা দেখে বোঝারও উপায় নেই।
যশোরের নওয়াপাড়া থেকে মোঃ জসিম মেয়েকে নিয়ে মেডিসিন-এর ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। আসতে তার বেলা সাড়ে ১১টা বেজে গেছে। হাসপাতালে ঢুকতেই বোরকা পরা এক নারী তাকে বলে ভাই টিকিট দেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আপনারা দেরি করেছেন কেন? এখনতো ডাক্তার নেই। টিকিট না পেলে আমাকে বলবেন। মাত্র একশ’ টাকায় মামনিকে বড় ডাক্তার দেখিয়ে দেবো, এই সামনেই ক্লিনিকটা। এক পর্যায়ে মহিলা তাকে সাথে নিয়ে চলে গেল হাসপাতালের সামনে উদয়ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। গিয়ে প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় ১২শ’ টাকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলো। বয়রা ক্রস রোডের বাসিন্দা সোহরাব ফরাজীকেও আটকানো হয়েছিল মেইন গেটে। ছেলের সাথে গিয়েছেন হাটুর ব্যথা নিয়ে। কিন্তু ছেলে সচেতন হওয়ায় দালালের কথা না শুনে টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়ান। ছেলেকে লাইনে দাঁড় করিয়ে তিনি চেয়ারে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সেখানে এক পুরুষ বলল এখানে ভালো দেখে না। আপনি বড় ডাক্তার দেখাবেন চলেন। একশ’ টাকা দিলেই হবে। ঢাকা থেকে ডাক্তার আসে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার। এসব কথায় মন গলে যায় তার। ছেলেকে নিয়ে চলে যান হাসপাতালের সামনে সুগন্ধা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক মেডিকেল অফিসারের কাছে। তিনি নাক কান গলা থেকে শুরু করে শিশু, সার্জারি ও অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ। তার প্যাডে এসব বাহারি ডিগ্রির পরে চিকিৎসক হিসাবে খুলনা মেডিকেল কলেজের নাম লেখা। একশ’ টাকায় হাটুর ব্যথার বড় ডাক্তার দেখাতে এসে তিনিও ১৫শ’ টাকার পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফাঁদে পড়েন। তবে তার মধ্যে ডাক্তার এক্সরে লেখেননি। এতো গেল ডাক্তার দেখানোর আগে দালালদের ফাঁদ।
এসব ফাঁদ উপেক্ষা করে ডাক্তার দেখিয়ে বের হয়েছিলেন গল্লামারী এলাকার মনিকা রানি বিশ্বাস। অনেকগুলো পরীক্ষা দিয়েছেন চিকিৎসক তাকে। বের হতেই তার হাত থেকে টিকিট নিয়ে নিলেন একটি যুবতী। বললেন এখনতো হাসপাতালে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে না। হাসপাতালে যদি না হয় আপনি আমার সাথে চলেন। বাইরে থেকে করেও এখানে দেখাতে পারবেন না। আমি এক জায়গায় নিয়ে যাবো হাসপাতালের রেটেই করাবেন। সেখানেই বড় ডাক্তার পাবেন, মাত্র একশ’ টাকায় দেখে দেবেন আপনাকে। উপায় না দেখে তিনি চলে গেলেন ঐ মেয়ের সাথে আর বাসায় ফিরলেন সর্বশান্ত হয়ে। এছাড়া আন্তঃবিভাগে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে ডাক্তারদের ম্যানেজ করে স্যাম্পল কালেকশন করে নিয়ে যায় দালালদের আপডেট ভার্সন। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৫শ’ গজের ভেতরে কোন ধরনের বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠান না করতে নীতিমালা রয়েছে। এসব নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই খুমেক হাসপাতালের আশপাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে ১৭টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগের সাথেই কোন চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা নেই। 
অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশির ভাগেরই কোন ধরনের কাগজপত্র নেই। বাংলাদেশ প্যাথলজিস্ট সোসাইটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে কোন ডিগ্রিধারী ও মানসম্মত প্যাথলজিস্ট রিপোর্ট করতে যায় না। 
খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন হাসপাতালের সামনে চিকিৎসার নামে খোলা দোকানগুলোর কারণে দালাল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রোগীদের খদ্দের বানিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের দালালরা হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরতে থাকে। মাত্র একশ’ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার-নীরিক্ষার ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে এরা। কোন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিয়মনীতি অনুসরণ করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুরোধ জানান তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫২

নিরালায় কেডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

নিরালায় কেডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৫











ব্রেকিং নিউজ


বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫২

নিরালায় কেডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

নিরালায় কেডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৫