খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬ |

কৃষকের কাছ থেকে আমন কেনার  চ্যালেঞ্জ শক্তভাবে মোকাবিলা করুন

৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

কৃষকের কাছ থেকে আমন কেনার  চ্যালেঞ্জ শক্তভাবে মোকাবিলা করুন

দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলে চলছে আমন ধান কাটার মৌসুম। তবে উত্তরবঙ্গে এখন শেষ পর্যায়ে। মাসখানেকের মধ্যেই মাঠ ধাঁধাবে সরিষা ফুল। ইতিমধ্যে উঠতে শুরু করেছে বেগুন, শিম, টমেটো। খেজুরগাছে রসের হাঁড়িও উঠতে শুরু করেছে। এসব অনুষঙ্গের সঙ্গে আমন ধান বিক্রির ‘হ্যাপা’ নিয়ে ফি বছর কৃষকের শীতকাল কাটে। বাজারে যে দামে ধান বেচা যায়, তার চেয়ে বেশি দাম দেয় সরকার। কিন্তু অনেকেরই সরকারের কাছে ধান বেচার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। প্রকৃত কৃষকের স্বপ্ন ছিনতাই করে নেন ফড়িয়া নামক মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সরকার কবে ধান কিনবে অনেক চাষি তার খবরও পান না অথচ আগাম খবর চলে যায় ফড়িয়া ও ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠদের কাছে। তবে এবারের শীতকালটা কৃষকের কাছে হয়তো উৎসবমুখর হয়ে ধরা দিতে পারে। কারণ, সরকার এ বছর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ঠিক ঠিক বাস্তবায়িত হলে বহু প্রকৃত কৃষক তাঁদের ধান ঠিক দামে বেচতে পারবেন।
বাজারে এখন প্রতি মণ নতুন ধান ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা এবং পুরোনো ধান ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার কিনছে কেজিপ্রতি ২৬ টাকায়। মানে, ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে। এই দাম পেলে হাতে চাঁদ পাবেন চাষিরা। সেটি নিশ্চিত করতে সরকার এবার কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহ করছে। ২০ নভেম্বর থেকে সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত তা চলবে। দেশের ১৬টি জেলার ১৬টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় লটারি করে কৃষক মনোনীত করে তাঁদের কাছ থেকে ধান কেনার কার্যক্রম চলছে। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, একজন কৃষককে মুঠোফোনে ‘কৃষকের অ্যাপ’ নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ধানের নাম, জমির পরিমাণ, কি পরিমাণ ধান বিক্রি করতে চান এসব জানিয়ে ধান বিক্রির আবেদন করতে হবে। এরপরই বরাদ্দের আদেশ ও মূল্য পরিশোধের সনদ সম্পর্কিত তথ্য এবং বিক্রির জন্য কোন তারিখে, কোন গুদামে যেতে হবে, সেসব তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে কৃষককে জানানো হবে। আবেদনকারী বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। এ পদ্ধতি সফল হলে আগামী বোরো মৌসুমে একই প্রক্রিয়ায় সারা দেশের কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ করা হবে।
অনেক উপজেলার সব আমনচাষির তালিকা করে লটারি করা হচ্ছে। লটারিতে নির্বাচিত কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান কেনা হবে। এতে ফড়িয়াদের উৎপাত কমার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এবার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি কার্যকর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ শক্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ