খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬ |

হলি আর্টিজানে হামলা মামলার রায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

হলি আর্টিজানে হামলা মামলার রায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

রাজধানীর কূটনীতিকপাড়া গুলশানে অবস্থিত হলি আর্টিজান  বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশিতই ছিল। ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে গত বুধবার ঘোষিত সাত জঙ্গির ফাঁসির আদেশ তাদের কৃতকর্মেরই উপযুক্ত ফল। ওই হামলায় জড়িত ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন আগেই নিহত হয়েছিল ঘটনাস্থলে ও পরে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত অভিযানে। 
জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। কিন্তু ২০১৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিন হলি আর্টিজান হামলার বর্বরতা ও ব্যাপ্তি যেন আগের সব হামলাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কেবল দেশে নয়, বিশ্বব্যাপীই ওই হামলা বেদনা ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। হামলার মাধ্যমে জঙ্গিরা প্রমাণ করেছিল, ধর্মের নামে সরল মানুষকে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করতে চাইলেও তারা আসলে অধর্মের পূজারি। পবিত্র রমজান মাসেও তারা ২২ জন নিরীহ মানুষ হত্যায় দ্বিধা করেনি। 
বস্তুত হলি আর্টিজান হামলা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রমের জন্যও একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা দেখেছি, হলি আর্টিজানের অঘটন পর্যন্ত জঙ্গিরা আগে হামলা করেছে, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারপর তৎপর হয়েছে। ওই হামলার সপ্তাহখানেক পর দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গিরা হামলা করতে যাওয়ার পথে চেকপোস্টেই প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল। আর জুলাই মাসেরই শেষ সপ্তাহে কল্যাণপুরে একই ধরনের জঙ্গিদের ডেরায় ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা জঙ্গিরা প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই অভিযান চালিয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 
গত তিন বছর ধরে আমরা দেখছি-আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার নতুন নতুন নজির রেখেছে। জঙ্গিবাদ দমনে গঠিত হয়েছে একটি বিশেষ বাহিনী। জঙ্গিবাদ বিরোধী নতুন ইউনিট ছাড়াও পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু জঙ্গি আটক হয়েছে বা অভিযানের সময় নিহত হয়েছে। ক্রমেই কমে আসছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষের ক্ষয়ক্ষতিও। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, তাদের আন্তর্জাতিক অর্থ সরবরাহে টান, সামাজিক সচেতনতা ও সতর্কতা প্রভৃতি কারণে জঙ্গিবাদ আর আগের মতো সুবিধা করতে পারছে না। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরের চতুর্থ সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক অভিযানে গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলার সূত্রও মিলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে হলি আর্টিজান মামলার রায় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর জন্য আরেকটি জরুরি বার্তা দিল। 
আমরা মনে করি, রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্মবিরোধী এই তৎপরতা আর চলতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয়ই শান্তিপ্রিয় কিন্তু অশান্তির অনুঘটকদের শায়েস্তা করতেও তারা জানে। আমরা এখন দেখতে চাইব, জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত সবগুলো মামলার এমন সফল পরিণতি হবে। হলি আর্টিজান হামলায় জড়িতদের যেভাবে দক্ষতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা গেছে, এমন সব মামলার ক্ষেত্রে একই গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা জানি, ইতোমধ্যে বেশ কিছু জঙ্গি জামিনে বেরিয়ে গিয়ে ফের জঙ্গিবাদে জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই প্রবণতা বন্ধে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিকল্প নেই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ