খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬ |

অ্যান্টিবায়োটিকের নিরাপদ  ব্যবহার নিশ্চিত করুন

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

অ্যান্টিবায়োটিকের নিরাপদ  ব্যবহার নিশ্চিত করুন

বিভিন্ন জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার খবর নতুন নয়। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রগুলো এখনও উন্মুক্ত। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন পত্রিকার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার কারণে বিশ্বে বছরে কয়েক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর কারণে ২০৫০ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি লোকের মৃত্যু হবে। গবেষণা দলের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘এসব জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ফলে এখন যে রোগই হোক না কেন, নিশ্চিন্তে ওষুধ খাওয়ার মতো অবস্থা আর নেই।’ একজন মানুষ হাসপাতালে সংক্রমিত অবস্থায় থাকবেন অথচ কোনো ওষুধই তার কাজে আসবে না এর চেয়ে উদ্বেগজনক আর কী হতে পারে?
নানা কারণেই জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা বাড়ছে। একটি প্রধান কারণ হল, দেশের অনেক মানুষ অজ্ঞতাবশত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে থাকেন। এক্ষেত্রে সহায়তা করেন অনেক ওষুধ বিক্রেতা। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সব ধরনের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা না গেলে এ সমস্যা দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যাবে। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সঠিক নিয়মসহ এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা না গেলে কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করেছে আমাদের শরীরে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর ফলে পশু-পাখির শরীরে যে জীবাণু থাকে, ধীরে ধীরে তা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। মানুষ যখন সেসব পশু-পাখির মাংস, মাছ ইত্যাদি খায় তখন খাবারের মাধ্যমে এসব অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এরপর মানুষ অসুস্থতার সময় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে তা আর কাজ করে না। যেহেতু মানুষের খাবার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগ বাড়ছে, সেহেতু সেসব খাবার বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রক্রিয়াজাত করার পর সরবরাহ করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকসহ সব ধরনের ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ