খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুলনা জেলা কারাগার 

বিভিন্ন ট্রেডে কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন ৪০ সাজাপ্রাপ্ত আসামি, আছে জ্ঞানার্জনের সুযোগ

এন আই রকি | প্রকাশিত ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:০৫:০০

হরেক নকশার কাঠের তৈরি খাট, ওয়ারড্রপ, শোকেজ, টিস্যু বক্স, নারিকেল পাতার শলা ও প্লাস্টিকের তৈরি ঝাড়–, পুঁথির ব্যাগ ও টিস্যু ব্যাগসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে অর্থ উপার্জন করছেন খুলনা জেলা কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা। পাশাপাশি কারাগারের লাইব্রেরী থেকে বিভিন্ন ধরনের বই সংগ্রহ করে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন আসামিরা। এ চিত্র কারাগারের। এইসবের পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধির জন্য করা হয়েছে মানব দেয়াল। যেখানে সাধ্যমত আসামিরা স্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাপড় বিনিময় করতে পারেন।
জেলা কারাগারের সূত্র জানায়, বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রায় ৪০ জন আসামি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বর্তমানে অর্থ উপার্জন করছেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ের বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে অপ্রাতিষ্ঠানিক তিনটি ট্রেড থেকে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তার অংশ পরিবারকেও দিচ্ছেন অনেক আসামি। 
সূত্রটি আরও জানায় হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি জেলার দাকোপ উপজেলার তপর সরদার। তিনি গত ৮ বছর ধরে জেলা কারাগারে কাঠের ফার্ণিচারের মিস্ত্রী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া বাগেরহাটে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামরুলও গত ৭ মাস ধরে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন। 
একাধিক সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জানান, বিভিন্ন মামলায় সাজা পাওয়ার পর তারা অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন কাজে যোগদান করে অর্থ উপার্জন করেন। এদের মধ্যে কাঠের কাজ, ঝাড়– তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ তৈরির কাজ উল্লেখযোগ্য। তারা যা আয় করেন তার অর্ধেক সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয়। বাকিটা যারা পরিশ্রম করেন তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়া হয়। 
গেল ২০১৮ সালের ঢাকার বাণিজ্য মেলায় জেলা কারাগারের আসামিদের তৈরি প্রায় লক্ষাধিক টাকার ফার্ণিচার বিক্রি করা হয়েছে। মাত্র ১ হাজার টাকা মজুরিতে কাঠের ওয়ারড্রপ, ১ হাজার ৮’শ টাকা মজুরিতে শোকেজ এবং ৩ হাজার টাকা মজুরিতে খাট তৈরি করেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা। এছাড়া তাদের নির্মিত চেয়ার ২ হাজার দুইশ’ টাকা, ঝাড়– ৬০ টাকা, কাঠের টিস্যূ বক্স ১শ’ টাকা, টিস্যু ব্যাগ ৬ টাকা এবং পুুঁথির ব্যাগ ৩শ’ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।  
এদিকে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন নয়, কারাগারের বসেই লাইব্রেরী থেকে বই সংগ্রহ করেও বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানার্জন করছেন আসামিরা। লাইব্রেরী থেকে উপন্যাস, বিজ্ঞান, গল্প, জীবনী, কবিতা, নারী, খেলাধুলা, ধর্ম বিষয়ক, সাহিত্য, নাটক, আইন, ইতিহাস, চিকিৎসা, ইংরাজীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩ হাজার বই সংগ্রহ করতে পারেন আসামিরা। জেলা কারাগারের প্রায় ৬০/৭০ জন আসামি প্রায় প্রতিদিনই লাইব্রেরী থেকে বই সংগ্রহ করে শিক্ষার্জন করেন। 
খুলনা জেলা কারাগারের জেলার জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা তিনটি অপ্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছেন। আয়ের অর্ধেক রাজস্ব খাতে এবং অর্ধেক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেওয়া হয়। পাশাপাশি কারাগারে লাইব্রেরীতে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩ সহস্রাধিক বই রয়েছে। সেখান থেকে আসামিরা বই সংগ্রহ করে জ্ঞানার্জন করেন। সম্প্রতি কারাগারে মানবতার দেয়াল করা হয়েছে। সেখানে আসামিরা স্বাধীনভাবে স্ব-উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাপড় বিনিময় করেন। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো আসামিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জ্ঞানার্জন বাড়ানো। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০









মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮



ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬