খুলনা | সোমবার | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি’র চিঠি 

ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের দাবি  

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:২১:০০

সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠি নিয়ে রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান দলটির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন ও খায়রুল কবির। বিএনপি বলছে, সংসদে তাঁদের সাংসদেরা এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
চিঠি দিয়ে বের হয়ে সাংবাদিকদের মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যেসব চুক্তি হয়েছে সেখানে দেশের স্বার্থ ক্ষতি করে, এমন কিছু আছে কি না, বিষয়টি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই চিঠি দেওয়া। 
আলাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে চুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংসদে এ বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিএনপি’র প্রতিনিধি থাকার পরও এভাবে চিঠি দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সংসদে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে আগে নোটিশ দিতে হয়। বিএনপি’র প্রতিনিধিরা কয়েকবার নোটিশ দিলেও তা গ্রহণ এবং কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাই বিএনপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছে। 
চিঠিতে বিএনপি উল্লেখ করেছে, প্রধানমন্ত্রী গত অক্টোবরে ভারত সফর করলে বেশ কয়েকটি চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু মোট কতগুলো চুক্তি হয়েছে, তা জনগণ জানে না। এর মধ্যে কিছু চুক্তি দেশবিরোধী বলে সমালোচনা হয়। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ফেনী নদীর পানি নিয়ে চুক্তির বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে তার জেরে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে হওয়া কোনো চুক্তিই সংসদে ও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছে বিএনপি। এসব চুক্তি সংসদে ও জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। তারা বলছে, এসব চুক্তি সম্পর্কে জানা জনগণের মৌলিক অধিকার। 
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে যা লেখা হয়েছে তা তুলে ধরা হলো-
‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সৌজন্যে আমরা জানতে পেরেছি যে আপনি সর্বশেষ ভারত সফরকালে ০৫ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের সাথে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। এছাড়া একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি রপ্তানি বিষয়সহ ৩টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে মর্মে প্রকাশ। প্রকৃতপক্ষে এ সফরের সময় ভারতের সাথে সর্বমোট কয়টি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সে সম্পর্কে জনগণ অবহিত নয়।’
‘ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এসকল চুক্তিকে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি তথা বাংলাদেশবিরোধী চুক্তি হিসেবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে নির্বিকার। অপর দিকে স্বাক্ষরিত এসকল চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী মর্মে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।’
‘ভারত দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি সংক্রান্ত চুক্তি ঝুলিয়ে রেখেছে। অথচ ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি উত্তোলনের চুক্তি, বাংলাদেশের উপকূলে ভারতের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সহযোগিতা বিনিময়ের নামে ভারতকে আমাদের উপকূলে রাডার স্থাপনে চুক্তি এবং মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চুক্তি সই করার পূর্বে বিষয়টি নিয়ে কখনো কোনো ধরনের পাবলিক ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়নি কিংবা বাংলাদেশের জনগণের মতামত গ্রহণ করা হয়নি।’
‘বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ১৪৫ (ক) তে উল্লেখ আছে যে, ‘বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’ ‘কিন্তু ভারতের সাথে যেসকল চুক্তি সই করা হলো তার কোনোটিই জনসম্মুখে কিংবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমুার মালিক জনগণই এসকল চুক্তির খুঁটিনাটি এবং বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। অথচ এসকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে অবহিত থাকা জনগণের মৌলিক অধিকার, যে অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত রাখা স্পষ্টতই সংবিধানের লঙ্ঘন।’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ





কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫০

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮