খুলনা | শুক্রবার | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

নকল প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা জরুরি

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

নকল প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা জরুরি

অতি প্রাচীনকাল হতেই মানুষের রয়েছে প্রসাধনীর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ। নিজের দেহ ও মুখাবয়বকে সৌন্দর্যমন্ডিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা কেবল উচ্চশ্রেণীর মানুষেরই নয়, হতদরিদ্রদেরও ছিল। মিশরের বিখ্যাত ফারাও রানি নেফারতিতি গুলগুল, মরিঙ্গা নামক গাছের রস হতে তৈরি প্রসাধনীর মাধ্যমে নিজের চোখের পাতা এবং ভ্রু সজ্জিত করতেন। মধ্যপ্রাচ্যে প্রাচীনকাল হতে এখন পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে আসছে সুরমা। প্রাচীনকাল হতে প্রাক-শিল্প যুগ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে দেশ ভেদে বিভিন্ন ধরনের খড়িমাটির তৈরি ত্বকের সৌন্দর্যের পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী, যা ছিল সাবানের বিকল্প। খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার বছর পূর্বে চীনে নখের যতœ ও সৌন্দর্য্যরে জন্য ডিমের সাথে বিশেষ গাছের নির্যাস ও ধাতুর গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি হত নেইল পালিশ। এখন আমাদের প্রশ্ন, তখনো কি সেগুলির নকল কারবারি ছিল? সম্ভবত না। প্রথমত তখন তৈরির উপাদানের হয়তো অভাব ছিল না, দ্বিতীয়ত মানুষ যখন আধুনিক হয়নি তখন অসৎ উপায় অবলম্বনেরও অভিনব সব কৌশল জানা ছিল না।
কিন্তু আজ সেই মানুষ প্রযুক্তিতে উন্নত হয়েছে, রসায়ন শাস্ত্রে চূড়ায় উঠেছে। প্রসাধনীর জন্য দেশে দেশে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল কোম্পানি। প্রসাধনীর ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর সর্বত্র। সেই সঙ্গে সমানতালে তৈরি হয়েছে একদল নকল প্রসাধনী তৈরির ব্যবসায়ী, যারা অধিক মুনাফার লোভে জুড়ে বসেছে এবং নকল প্রসাধনী তৈরির যাবতীয় দক্ষতাও অর্জন করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে এদের প্রাদুর্ভাব সীমাহীন। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রকাশ্যে নকল কোম্পানি খুলে বসেছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের সঙ্গে সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি হয় প্রসাধনী এবং তা নামী কোম্পানির মোড়কে ভরে বিক্রি করা হয় চড়া দামে। প্রসাধনী ব্যবহারকারীরা হন প্রতারিত। এইসব প্রসাধনী অবাধে বিক্রয় হয় বাজারে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা আতাসুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমনই নকল প্রসাধনীর পাঁচটি কারখানার সন্ধান পায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারা বেবি লোশন, অলিভ ওয়েল, হেয়ার ওয়েলসহ ২৬টি বিদেশি পণ্যের নামে নকল প্রসাধনী জব্দ করে।
এই নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা যে এই প্রথম ধরা পড়ল তা নয়। প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায় এইসব নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা হাতেনাতে ধরার সংবাদ। কিন্তু এই প্রবণতা কমছে না। এর কারণ কি যথোপযুক্ত শাস্তি না হওয়া, নাকি অধিক মুনাফা মানুষকে এতটাই লোভী করে তুলছে যে, দমানো যাচ্ছে না তা বলা মুশকিল। তবে এই বিষয়ে জনসচেতনতাও জরুরি। জনগণ যথাযথভাবে সচেতন হলে এই অবৈধ ব্যবসা কূল পাবে না বলে আমরা মনে করি। মনে রাখতে হবে, এসব নকল প্রসাধনী ব্যবহারে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে নকল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবার একটি দায়ও স্থানীয় বাসিন্দাদের রয়েছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ


বটিয়াঘাটার ওসি ও দুই এএসআই ক্লোজড

বটিয়াঘাটার ওসি ও দুই এএসআই ক্লোজড

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২০




মহান বুদ্ধিজীবী দিবস কাল

মহান বুদ্ধিজীবী দিবস কাল

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০২






ডুমুরিয়া মুক্ত দিবস আজ

ডুমুরিয়া মুক্ত দিবস আজ

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৮