খুলনা | সোমবার | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ান

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ান

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বসতঘর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। বুলবুলের তান্ডব চলে যেতেই ঘরে ফিরেছে সর্বস্ব হারানো মানুষজন। তাই ভরা পূর্ণিমায়ও তাদের চোখে অমাবস্যার অন্ধকার। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত খুলনার পাঁচ উপজেলা। জেলায় দুই লাখ ৯৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে ৪৮ হাজার পরিবার। বরাদ্দকৃত চাল এখনো ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়নি বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন। বুলবুলের তান্ডববে সুন্দরবন উপকূলীয় কয়রা ও দাকোপ উপজেলা এবং বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও রূপসা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তহয়। ৩৭ হাজার ৮২০টি বাড়ি আংশিক ও ৯ হাজার ৪৫৫টি সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়। খুলনার ২৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে ডুবে যায়। ৮৫০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতি হয়। সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির উঠতি আমন ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় ২১ জেলায় ৯৫ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকা এখনও বিদ্যুৎহীন। যা স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এসব জেলায় ১২১টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, ২০০টি হেলে গেছে এবং ৫৫৬টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জেলায় বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। বিদ্যুৎব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে চিংড়ি খাত। বরফ উৎপাদন বন্ধ থাকায় চিংড়ি সংরক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য চাষীরা।
ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে খুলনা ও সাতক্ষীরার মানুষের জীবন যেন একই সুতোয় গাঁথা। সিডর ধ্বংসের ছাপ না মুছতেই এল আইলা। আইলার ক্ষত না শুকাতেই ফণী। তারপর ফণীর শোক কাটিয়ে না উঠতেই এল বুলবুল। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এখানকার জনজীবন বারবার বিপন্ন হচ্ছে। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই কোনো পদক্ষেপ নেই। এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা চিংড়ি চাষ। কেউ চিংড়ি চাষ করেন, আবার কেউ পোনা বিক্রি করেন। চিংড়ি প্রক্রিয়াযাতকরণ, পরিবহনসহ নানা কাজেও অনেকে নিয়োজিত।  ভয়াবহ বুলবুল দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলায় তান্ডব চালিয়েছে। ঘূর্ণিদুর্গত এলাকায় যাঁরা ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা, তাঁদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে সমস্যা হবে। অতএব, ঋণের কিস্তি গ্রহণ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দ্রুত সেগুলো অবিলম্বে মেরামত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি না হয়। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা যেহেতু ভেড়ীবাঁধের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল, সেহেতু ভেড়ীবাঁধ টেকসই হওয়া আবশ্যক।
প্রতিবারের মতো এবারও সুন্দরবন মায়ের মতো আমাদের আগলে রেখেছে। সুন্দরবন না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতো। এই সবুজ বেষ্টনী রক্ষায় আমাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। উন্নয়নের নামে সুন্দরবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। আমরা মনে করি, শুধু খুলনা ও সাতক্ষীরা নয়, বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও কয়েকটি জেলার মানুষ। তাদের সবার জন্য সহায়তার হাত বাড়াতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০








অতিথি পাখি রক্ষায় সচেতনতা জরুরি

অতিথি পাখি রক্ষায় সচেতনতা জরুরি

২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ





কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫০

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮