খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন গ্রেড প্রত্যাখ্যান

প্রধান শিক্ষকদের ১০তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম দেয়া না হলে নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

খবর প্রতিবেদন  | প্রকাশিত ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬:০০

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেয়া না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোট। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন গ্রেড প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষক নেতারা এমন ঘোষণা করেন।
শিক্ষক মহাজোট : বেতন বৈষম্য নিরসনে ১৩তম গ্রেড প্রত্যাখ্যান করে ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে করেছে বাংলাদেশ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোট। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে দীর্ঘ পাঁচ বছর শিক্ষক মহাজোট আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়, যা সহকারী শিক্ষকদের কাম্য নয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বরে ১২তম গ্রেডে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই মর্মে প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করে ও ৭ নভেম্বর ১৩তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণে সম্মতি দেয়। 
বক্তারা বলেন, ১৩তম গ্রেডে সব শিক্ষকের বেতন কমে যাবে, এমনকি ১২তম গ্রেডেও সহকারী শিক্ষকদের এক টাকাও বেতন বাড়বে না। গ্রেডে বৈষম্য দূর হলেও টাকার অংকে এই বৈষম্য থেকেই যাবে। ১৩তম গ্রেডে বেতন উন্নীত করা সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। সুতরাং, বেতন বৈষম্য নিরসনে ১১তম গ্রেডের কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ১৩তম গ্রেড প্রত্যাখান করে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণের প্রস্তাব ফের পাঠানোর জোর দাবি জানানো হয়। ১১তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের শাহীনুর আকতার। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ আসাদুজ্জামান।
প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ : সংগঠনের নীতি-নির্ধারণী কমিটির জরুরি সভা শুক্রবার পুরাতন পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষকরা। কারণ ওই গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করলে শিক্ষকদের বেতন বাড়বে না বরং অধিকাংশ শিক্ষকদের বেতন কমে যাবে। ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তির পর প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বক্তব্যে ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষককে ১১তম গ্রেড ও ৩ লাখ ৪২ হাজার সহকারী শিক্ষককে ১৩তম গ্রেডে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তাতে অধিকাংশ শিক্ষকের বেতন বাড়ার পরিবর্তে কমে যাবে। কারণ, সরাসরি প্রায় ২০ হাজার প্রধান শিক্ষক বর্তমানে ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অবশিষ্ট পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের সমস্কেলে বেতন পাবেন। কিন্তু নিম্নধাপে উন্নীত স্কেলে ফিক্সেশন করলে প্রতিমাসে শিক্ষকদের বেতন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা কমে যাবে। যে ক্ষতি শিক্ষকরা চাকুরি শেষেও কাটিয়ে উঠতে পারবে না। এর জন্য বর্তমান বেতন কাঠামোই দায়ী। তাই শিক্ষকদের দাবি প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করে বেতন বৈষম্য নিরসন করা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা একান্ত জরুরি।
তারা আরও জানান, ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিরসনে শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শিক্ষকদের অভিমত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেই তাদের বেতন বৈষম্য নিরসন হবে। অন্যথায় শিক্ষক নেতারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। সভায় বক্তৃতা করেন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সামছুদ্দিন মাসুদ, মোঃ বদরুল আলম, আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, আব্দুল্ল¬াহ সরদার, আবুল কাশেম, রবিউল হাসান, সাবেরা বেগম, বাঁধন খান ববি, জাকির হোসেন, মশিউর রহমান প্রমুখ।
এদিকে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির মিডিয়া ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনার মহাজোট নেতা মোস্তফা জামাল উদ্দিন বলেন,  ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে ১১তম গ্রেডের দাবি জানানো হচ্ছে অথচ দেয়া হলো ১৩তম গ্রেড, যা  প্রত্যাখান করা হয়েছে।
বাপ্রাবিসশিস’র কেন্দ্রীয় এবং খুলনার নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে মুনির হোসেন, অধীর কুন্ডু,এস এস সানোয়ার, সৈয়দ আনিসুজ্জামন, কাজী তরিকুল ইসলাম বলেন, ১৩তম গ্রেড প্রত্যাখানের পাশাপাশি ১১তম গ্রেডের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারও আবেদন জানাবো। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ