খুলনা | শুক্রবার | ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

স্বেচ্ছায় রক্তদানে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে

ডাঃ জিল্লুর রহমান তরুণ | প্রকাশিত ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৭:০০

গত ১৪ বছরে বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা শূন্য থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেও এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মাঝে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়ার মানসিকতার ঘাটতি রয়েছে। 
অধিকতর নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা শতভাগে উন্নীত করা দরকার। এ জন্য সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ওয়েবসাইটে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়। ২০১৩ সালে শিশু জন্মদানের সময় সারা বিশ্বে প্রায় তিন লক্ষ মায়ের মৃত্যু ঘটে। তাঁদের ২৭ শতাংশের মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তপাত এবং সেই ঘাটতি পূরণ করতে না পারা। কোনো দেশের এক হাজার মানুষের মধ্যে যদি ১০ জন নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসে, তাহলে সেখানে রক্তের কোনো অভাব থাকার কথা না।
বাংলাদেশে ২০০০ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচি শুরু হয়। 
রক্তদান সম্পর্কে ধারণা ঃ রক্তদান হল কোন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় রক্ত দেবার প্রক্রিয়া। এই দান করা রক্ত পরিসঞ্চালন করা হয় অথবা অংশীকরণের মাধ্যমে ঔষধে পরিণত করা হয়। উন্নত দেশে বেশিরভাগ রক্তদাতাই হলেন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান করেন। 
সম্ভাব্য রক্তদাতার রক্ত ব্যবহার যে সব কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে তার সবকিছুই পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগ (যেমন এইচআইভি ও ভাইরাল হেপাটাইটিস) এর পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। রক্তদাতাকে তার চিকিৎসার ইতিহাস জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তার একটি সংক্ষিপ্ত শারীরিক পরীক্ষা করা হয় তা নিশ্চিত করার জন্যে যে রক্তদান তার শরীরের জন্যে ক্ষতিকর হবে না। একজন রক্তদাতা কতদিন পরপর রক্তদান করতে পারবেন তা নির্ভর করে তিনি কী দান করছেন তার ওপর এবং যে দেশে রক্তদান সম্পন্ন হচ্ছে সে দেশের আইনের উপর। তবে প্রতি চারমাস অন্তর অর্থাৎ ১২০ দিন পর পর মানবদেহে নতুন রক্ত তৈরি হয়।
রক্তদানের উপকারিতা ঃ প্রথম এবং প্রধান উপকারিতা, একজনের দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে। রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয় এবং রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকার জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ  হয়ে যায়। বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য রক্তদান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। নিয়মিত রক্তদান করলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ। পদ্মার এপারে সর্ববৃহৎ এবং সয়ংসম্পূর্ণ একটি ব্লাড ব্যাংক। এখানে ব্লাড ট্রান্সফিউশনের পূর্বের সকল পরীক্ষা নীরীক্ষা করে। সঠিক ও নিরাপদ উপায়ে ব্লাড ট্রান্সফিউশন করা হয়। এখানে অভিজ্ঞ টেকনোলোজিষ্ট ২৪ ঘন্টা ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস প্রদান করে থাকে। খুলনায় অনেক বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালেও অবৈধভাবে ব্লাড ট্রাস্মফিউশন করে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরী। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে একদিনে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন নিয়ে সন্দেহ থাকে অন্যদিকে অর্থ অপচয় হয় ব্যপক ভাবে। তাই খুলনার মানুষের ব্লাড ট্রান্সফিউশনের ক্ষেত্রে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে আসা উচিত।

ডাঃ জিল্লুর রহমান তরুণ
মেডিকেল অফিসার
ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










Lipoma (চর্বির টিউমার) কি? আসুন জানি ।

Lipoma (চর্বির টিউমার) কি? আসুন জানি ।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০৩


প্লাস্টিক সার্জারি কী ও কেন

প্লাস্টিক সার্জারি কী ও কেন

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ


বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫২

নিরালায় কেডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

নিরালায় কেডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৫