খুলনা | সোমবার | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনার পাঁচ উপজেলা

প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য বরাদ্দ আট লাখ টাকা ও ১৬০ মেঃ টন চাল

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:১০:০০

প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য বরাদ্দ আট লাখ টাকা ও ১৬০ মেঃ টন চাল

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত খুলনার পাঁচ উপজেলায় পুনর্বাসনে আট লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলায় দুই লাখ ৯৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে ৪৮ হাজার পরিবার। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ মাথাপিছু তিন টাকারও কম। বরাদ্দকৃত চাল এখনো ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়নি বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা বলছে, নতুন করে আরও বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
সূত্রমতে, বুলবুলের তাণ্ডবে সুন্দরবন উপকূলীয় কয়রা ও দাকোপ উপজেলা এবং বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও রূপসা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ৩৭ হাজার ৮২০টি বাড়ি আংশিক ও ৯ হাজার ৪৫৫টি সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, খুলনার ২৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে ডুবে যায়। ৮৫০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতির হয়।
জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় আড়াই লাখ টাকা করে, পাইকগাছা উপজেলায় দেড়লাখ টাকা, বটিয়াঘাটা উপজেলায় এক লাখ টাকা এবং রূপসা উপজেলায় ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় ৫০ মেট্রিক টন করে চাল ও ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, পাইকগাছায় ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ২০০ প্যাকেট খাবার, বটিয়াঘাটায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, রূপসায় ১৫ মেট্রিক টন চাল ও ১০০ প্যাকেট খাবার দেয়া হয়েছে। জেলায় সর্বমোট ৮ লাখ জিআর টাকা, ১৬০ মেট্রিক টন চাল ও ১৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  শুকনা খাবারের প্যাকেটে ছিল দশ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক লিটার সয়াবিন, এক কেজি চিনি, এক কেজি লবন, দুই কেজি চিড়া ও ৫০০ গ্রাম নুডুলস্ ছিল। আর জিআর টাকা চেকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেয়া হবে। পরে তিনি বিতরণ করবেন।
কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জিএম কবি শামসুর রহমান বলেন, “খুলনার সবচেয়ে অবহেলিত দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে তিন হাজার সাতশ’ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিংড়ি চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের রাতে আট হাজার টাকা মূল্যের ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছিল। এরপর আর কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে শুনেছি ১২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, আসবে। কোন নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। গত বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের রান্নার ব্যবস্থা হয়নি।”
কয়রা সদর ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, তার ইউনিয়নের জন্য ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব চাল এখনো বিতরণ করা হয়নি। ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দশ হাজার কাঁচা ঘর আংশিক ও ২০ হাজার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হলেও তা উপজেলা প্রশাসনে ফেরত দেয়া হয়েছে।  এতো অল্প পরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
জেলা ত্রাণ ও পুর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার সময়ের খবরকে বলেন, জিআরের টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে এক হাজার ব্যান্ডেল ঢেউটিন ও ৩০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রতি ব্যান্ডেল টিনের সাথে তিন হাজার করে নগদ অর্থ দেয়া হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫০

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮








ব্রেকিং নিউজ





কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫০

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮