খুলনা | রবিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১ পৌষ ১৪২৬ |

দেশের রেলপথগুলোর প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি জরুরী

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

দেশের রেলপথগুলোর প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি জরুরী

আমাদের দেশে সড়ক পথে যাতায়াতের চেয়ে রেলপথকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করেন যাত্রীরা। এসব ট্রেনের গতি থাকে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। কিন্তু তার পরেও বিভিন্ন সময় প্রায়শই রেলের বগি লাইনচ্যুৎ হয়ে যাত্রীদের মৃত্যু ঘটে। গতকালও  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তূর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অরক্ষিত লেভেলক্রসিং, চালক, সংশ্লিষ্টদের গাফিলতা ও পথচারীদের অসচেতনতার কারণে প্রায়ই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
রেলসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। গত বছর মৃত্যু হয় ৩০৩ জনের। এর আগের বছর মৃত্যু হয় ৮১২ জনের। অনাকাঙ্খিত বিভিন্ন দুর্ঘটনা এড়াতে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ সংস্কারে পূর্বাঞ্চলে রেলক্রসিং পুনর্বাসন ও গেটকিপার নিয়োগে প্রকল্প হাতে নেয় রেল মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ৮০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। কিন্তু ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও শেষ হয়নি সে কাজ।  চার বছর আগে এ প্রকল্পের আওতায় ৩২৮টি গুরুত্বপূর্ণ লেভেলক্রসিংয়ের পুনর্বাসন ও মানোন্নয়ন কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ নির্ধারিত সময়ের পর আরও পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬৯ শতাংশ। 
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র বলছে, এ অঞ্চলের অধিকাংশ লেভেল ক্রসিংয়েই গেটকিপার নেই। রেলওয়ে অ্যাক্ট ১৮৯০ ও রেলওয়ে ম্যানুয়্যাল অনুসারে রেলপথ অতিক্রমকারী সড়কগুলোর ক্ষেত্রে লেভেলক্রসিং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে অর্থবরাদ্দ নিয়ে ক্রসিং নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে সংশ্লিষ্ট অন্য বিভাগগুলো। কিন্তু আজও সে ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। রেলের পশ্চিমাঞ্চলেও একই অবস্থা। লেভেলক্রসিং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারায় ও প্রয়োজনীয় গেটকিপার না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরণের দূর্ঘটনার পেছনে মানুষের অসচেতনতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দুষছে রেলওয়ে পুলিশ। সারাদেশে মোট রেলপথ ২৮৭৮ কিলোমিটার। লেভেল ক্রসিং রয়েছে ২৫৪১টি। যার মধ্যে অবৈধ রেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ১৩০০টি। অথচ এসব লেভেল ক্রসিংয়ে রেলরক্ষী রয়েছে মাত্র ২৪২ টিতে। এতে সহজেই ধারনা করা যায় আমাদের দেশের রেলপথগুলো অরক্ষিত। আমরা মনে করি, এই বিশাল এলাকাজুড়ে প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারিতে আনা জরুরী। এক্ষেত্রে জন সচেতনতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ






বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫১