খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় ৬৩ মি.মি বৃষ্টিপাত

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে কৃষক ও ঘের মালিকের মুখের হাসি উড়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:১০:০০

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র নেতিবাচক প্রভাবে আমন ধান, শীতকালীন শাক-সবজি ও মৌসুম শস্যের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তলিয়েছে মৎস্য ঘের ও মাছের পুকুর। ফলে খুলনা অঞ্চলের কৃষক ও মৎস্য ঘের মালিকদের মুখের হাসি উড়ে গেছে ‘বুলবুল’-এ। খুলনাতে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক পংকজ কান্তি মজুমদার জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র নেতিবাচক প্রভাবে খুলনায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধান ও ৮৬৪ হেক্টর জমির শীতকালীন শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ধানে ক্ষতি হয়েছে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটায়। খুলনার সকল এলাকায় শীতকালীন শাক-সবজি ও মৌসুমী শস্যের ক্ষতি হয়েছে। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলায়।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, কিছুদিন পরে মাটির জো’ ফিরে আসবে, তখন শীতকালীন শাক-সবজি ও মৌসুম শস্য পুনরায় রোপন করা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হবে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। 
রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুজ্জামান জানিয়েছেন, রূপসায় ধানের চেয়ে পানের বরজে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ২১৫ হেক্টরের মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির পানের বরজে ক্ষতি হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার পাল জানান, খুলনাতে সহস্রাধিক মৎস্য ঘের ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য ঘেরের ক্ষতি এই মুহূর্তে সঠিকভাবে নিরূপন করা সম্ভব নয়, কারণ দুর্যোগের পরেও এর প্রভাব পড়তে পারে। খুলনায় এক লাখ ১৪ হাজার গলদার ঘের এবং এক লাখ ৪৭ হাজার বাগদার ঘের রয়েছে। কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা এলাকার মৎস্য খামারীদের ক্ষতির পরিমাণটা বেশি।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, দাকোপে ৭৪০টি ঘের ও পুকুরে পানি ঢুকে মাছ ভেসে গেছে। 
কয়রা উপজেলা ঘূর্ণিঝড় মনিটরিং কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর রানা জানান, উপজেলায় অনেক ঘের ও পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। 
কয়রা এলাকার একাধিক ঘের মালিক জানিয়েছেন, অতিবর্ষণে ঘেরের বাঁধ প্লাবিত হয়ে ভেসে যাওয়ায় মাছ বেরিয়ে গেছে। এতে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ১০নং বিপদ সংকেতের পূর্বাভাস ছিল আবহাওয়া অধিদপ্তরের। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি সাত ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হয়েছিল। খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ মোঃ আমিরুল আজাদ জানান, গত রবিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রভাব সম্পূর্ণ কেটে গেছে তবে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু পানি বাড়তে পারে। তবে আশঙ্কার কিছু নেই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০









মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮



ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬