খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব 

খুলনায় ৪৭ হাজার ২৭৫টি  ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত : উপচে পড়েছে অসংখ্য গাছ   

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:০৮:০০

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনায় ঘরবাড়ি ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাছপালা। অসংখ্য ছোট-বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। প্রত্যন্ত উপজেলা থেকে খুলনা নগরীতে উপচে পড়েছে হাজার হাজার গাছ।  
খুলনা মহানগরী ও উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গত রবিবার ভোর ৫টা থেকে খুলনা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তবে ঝড়টি সুন্দরবনে প্রথম আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় উপকূলের মানুষ। অবশ্য বুলবুল অতিক্রম করার পর এ অঞ্চলের প্রকৃতিতে রেখে যায় তার বিরূপ প্রভাব। ভেঙে পড়ে ফলজ-বনজসহ ছোট-বড় অসংখ্য গাছ। খুলনার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। ফলে রবিবার সকাল থেকে কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছার অভ্যন্তরীণ সড়কে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এক ঘণ্টা সময়ের পথ অতিক্রম করতে লেগেছে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত। ভোগান্তিতে পড়ে সড়কপথে যাতায়াতকারীরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গাছ সরানোর কাজ করেন। বাড়িঘরেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলের বিভিন্ন এলাকার ভেড়ীবাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ ও বিদ্যুৎতের খুঁটি উপচে পড়ে অধিকাংশ সড়কেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা গাছ কেটে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুর। অধিকাংশ সেমিপাকা বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে। 
খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আরও কত গাছ যে সরাতে হবে আমরা জানি না। 
জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা থেকে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৪৭ হাজার ২৭৫টি ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৮২০টি বাড়ি আংশিক এবং ৯ হাজার ৪৫৫টি বাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে। দুর্গত কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটায় উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৯০০ প্যাকেট খাবার, ১৬০ মেট্রিক টন চাল এবং ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিহত দুই জনের পরিবারকে ২৫ হাজার করে মোট ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলের বিভিন্ন এলাকার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোথাও বাঁধ ভাঙার সংবাদ পাওয়া যায়নি। বাঁধ ঠিক থাকায় বড় ধরণের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উপকূলের মানুষ। 
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, আগে কিছু মেরামত কাজ করায় এবার বাঁধ ভাঙেনি। তবে বিভিন্ন পোল্ডারে সাড়ে ১১ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  
পাউবো খুলনা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ঢেউয়ের আঘাতে দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছায় প্রায় ৫ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়রা উপজেলারও প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধের ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো মেরামত করতে ঢাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০









মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮



ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬