খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বুলবুলের প্রভাব 

বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি : এখনো অন্ধকারে অনেকে 

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৯:০০

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনা মহানগরীসহ উপজেলার বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ফলে অন্ধকারে থাকতে হয়েছে সাধারণ জনগণকে। অনেক স্থানে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। গাছ পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে শনিবার ভোর থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলো খুলনা মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলা। রবিবার বিকেলে ও রাতে খুলনা নগরীসহ ৬টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়। এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বেশীরভাগ এলাকা। এমনটাই জানিয়েছেন সময়ের খবরের উপজেলা প্রতিনিধি ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। 
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সাঈদ হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ও খুঁটি পড়ে জেলার ৮টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিটি জেলায় ৩৩ হাজার কেভি লাইনের সংযোগ ছিড়ে গেছে। এতো ক্ষতি ইতোপূর্বে কখনো হয়নি। নিজস্ব ২০০ জনবল এবং অতিরিক্ত আরও ১০০ জন শ্রমিক, স্থানীয় গ্রামবাসী রবিবার দুপুর থেকে একটানা কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৬টি উপজেলায় ৩৩ হাজার ভোল্টের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দাকোপ ও কয়রা উপজেলায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পানিতে পড়েছে। এই দুই উপজেলায় এখনো কাজ চলছে। বিদ্যুতের ২৫০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২০টি পোল ভেঙে পড়েছে। ৫১টি ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। তবে দু-একদিনের মধ্যে স্বভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদী। 
ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী আবু হাসান বলেন, খুলনাসহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব চেয়ে বিভিন্ন দফতরগুলোতে ফরম প্রেরণ করা হয়েছে। হিসাব এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে আগামীকালের মধ্যে সব তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক করতে কাজ চলমান রয়েছে। 
পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্নস্থানে বিদ্যুতের তারে বড় বড় গাছ পড়ে তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যায়। সে কারনে গত শনিবার মধ্যরাত থেকে টানা প্রায় ৩৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনাল অফিসের লোকজন দিন-রাত পরিশ্রম করে গতকাল সোমবার বেলা একটার দিকে উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারলেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বৃেল জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 
দাকোপ উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ ইনচার্জ একানুর রহমান জানায়, তাদের ৫টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, ১২টি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি পড়েও ভেঙে গেছে, তার ছেড়াসহ শতাধিক মিটার ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছেন। রবিবার দুপুরের পর খুলনা পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর সালাম দাকোপের ক্ষতিগ্রস্ত লাইন পরিদর্শন করেন।  
ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল মতিন বলেন, ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের তার ও খুঁটি ভেঙে গেছে। আমরা সব এলাকা জরিপ করছি। তবে সব এলাকায় লাইন পৌঁছাতে সময়ের প্রয়োজন। 
ফুলতলার আলকা পল্লী মঙ্গল এলাকা, শিকিরহাট এবং দামোদর মন্দির এলাকায় বৈদ্যুতিক তারের উপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় বৈদ্যুতিক সঞ্চালন বন্ধ করে দেয়া হয়। বিদ্যুৎ কর্মীদের সারাদিনের প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৫টায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী তোবারক আহমেদ জানান। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০









মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮



ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬