খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

রোহিঙ্গারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি : প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৭:০০

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান হওয়া উচিত।আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য শান্তি ও সম্প্রীতি জরুরি। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯র উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) ও ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
বৈশ্বিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও ধারণা বিনিময়ের এই আয়োজনে ৫০টি দেশের দেড় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে আমি বলতে চাই, দমন-পীড়নের মুখে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, এই রোহিঙ্গারা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। সেজন্য আমি এই হুমকির তাৎপর্য অনুধাবনের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। এ বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার পরও সংঘাতে না জড়িয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমরা তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে ঝগড়া করছি না। বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মিয়ানমারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই সমস্যার আশু সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত এই মূলনীতিই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। জাতির পিতার প্রদর্শিত এই পথে আমরা আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী থাকলে সমস্যা থাকবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব। আমরা ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় করেছি। এটা বিশ্বের একটি উদাহরণ।
বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকার নিরাপত্তায় এর সংলগ্ন সব দেশকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি, উপকূলবর্তী ও সামুদ্রিক এলাকায় সন্ত্রাসী আক্রমণ, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক পাচার-এর মত অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান। এসব অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ অঞ্চলে সমুদ্রের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর তথা ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশ। নানা কারণে এই মহাসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর দিয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছে, যা এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতি সমূহের জ্বালানি ও রসদের যোগান দেয়। বিশ্বের কনটেইনার শিপমেন্টের অর্ধেক এবং সমুদ্রবাহিত তেল বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ অতিক্রান্ত হয় ভারত মহাসাগর দিয়ে। বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুদের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ এই মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন সাগরসমূহে অবস্থিত। তিনি বলেন, সারাবিশ্বের ২৮ শতাংশ মৎস্য আহরিত হয় এই অঞ্চলে। এই বিপুল সম্পদের উৎস এবং কৌশলগত কারণে ভারত মহাসাগর বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বিবেচনায় বর্তমান শতক এশিয়ার শতক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধির স্বার্থে শান্তি-সৌহার্দ্য বজায় রাখা আবশ্যক।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬