খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

পশুর পাড়ের মানুষের নির্ঘুম রাত 

সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে ১০ সহস্রাধিক জেলে    

মোংলা প্রতিনিধি  | প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬:০০

সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে ১০ সহস্রাধিক জেলে    

গতকাল শনিবার সকাল থেকে মোংলা বন্দর শহরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বাতাসের তীব্রতা তেমন দেখা যায়নি। বন্দরের অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাস-বোঝাই কাজ বন্ধ রয়েছে। ১০ নম্বর বিপদ সংকেত হওয়ায় পশুর নদী ও মোংলা নদীতে সকল নৌযান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে বন্দরে বিশেষ সতর্কতা এলার্ট-৪ এখনও বলবৎ আছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 
এর আগে সকাল থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয় যাওয়ার জন্য সিপিপি, পৌরসভা ও উপজেলা প্রসাশন মাইকিং করে সবাইকে আশ্রায় কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু বেশীরভাগ লোকই আশ্রায় কেন্দ্রে যেতে চায়নি। শহরে বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু বাতাসের তীব্রতা না দেখায় আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে না মানুষ। তবে উপজেলার পৌরসভাসহ সকল ইউনিয়নের ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে রাখা হয়েছে এবং সকল এলাকায় পাকা স্থাপনা ও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ভবনগুলো মানুষের আশ্রায়ের জন্য প্রস্তুত রেখেছে উপজেলা প্রসাশন। বাজারের শুকনা খাবার চিড়া-মুড়ি, গুড়, মোমবাতি ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবসায়ীদের মজুদ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাহী কর্মকর্তা।
ঘূর্ণিঝড়ের কারনে উপকূলীয় পশুর নদীর পাড়ের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। নদী ও খালে অবস্থান নেয়া মাছধরা ট্রলার ও নৌকা নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও দুবলার চরাঞ্চলে শুটকি আহরনের জন্য যাওয়া প্রায় ১০ হাজারেরও বেশী জেলেকে মাছ ধরা ট্রলারসহ সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। 
ট্রলারে থাকা জেলেরা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে চলে এসেছে। তবে এখনও অনেক জেলে সাগরে রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে মোংলায় ইচ্ছে করলেই চলে আসা যায় না। আসতে প্রায় ৫/৬ ঘন্টা সময় লাগে বলে জানান ফিরে আসা জেলেরা। 
কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বন বিভাগের বন রক্ষীরা সুন্দরবনের সকল ক্যাম্প অফিস প্রস্তুত রেখেছে বলে জানান বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিন কবির। এ অঞ্চলের লোকজনের জান-মাল রক্ষায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সদস্যরা। তাদের কন্টোল রুম থেকে ঘূর্ণিঝড়ের খবরা-খবর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সকলের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির মোংলা উপজেলা সহকারী পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত জানার পর থেকে আমদের উপজেলায় ৯৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক সবাই ম্যাগাফোনের মাধ্যমে প্রচার, হ্যান্ড সাইরেন বাজিয়ে মহাবিপদ সংকেতের বার্তা পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে। এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে, যাতে মানুষ দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। 
মোংলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এহতেসামুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মানুষকে জানিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আমাদের ৩টি টিম বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করছে। এছাড়া উপজেলায় ৫টি টিম প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সকল কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি খাবারের আরও প্যাকেট তৈরির ব্যবস্থা চলছে। দুর্যোগের সময় চিড়া যেহেতু বেশি প্রয়োজন হয়, তাই আমরা বাজারে কয়েকটি ব্যবসায়ীকে চিড়া ও গুড় মজুদ রাখতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে তারা আমাদেরকে চিড়া সরবরাহ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, উপজেলা ও প্রশাসন ও সিপিপির একাধিক টিম উপজেলার দুর্যোগের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান করছে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ