খুলনা | রবিবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মহানবী (সাঃ) এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:১৭:০০

মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহামানব ও শ্রেষ্ঠতম রাসূল। যার অসাধারণ বৈশিষ্ট্য সমূহ শুধু পূর্ববর্তী ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে তা নয়। স্বয়ং মহান রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন। তাইতো তাকে বলা হয় ‘সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গম্বর’। বিশ্ব নবীর কর্মময় জীবনের ছবিটি ফুটে ওঠে তার আপন চরিত্রে। আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে এমন কোন মহা পুরুষের আবির্ভাব হয়নি, যাঁর জীবন কথা বা সমগ্র জীবনের আদি-অন্ত শেষ নবীর মত বিশ্বদুয়ারে এত খোলামেলা। কোথাও যেন এতটুকুও গোপনীয়তা নেই। কারণ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জীবনআর্দশ হলো জাতির একটি নমুনা বা মডেল যা অনুকরনী এবং অনুসরনী। কেননা তিনি ছিলেন সুমহান চরিত্রের সুমজ্জিত ও সবদিকে অতুলনীয়। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- “আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত, সূরা কলম, আয়াত নং- ৪”।
যার চরিত্র গুণাগুনের ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আরব জাতিতে শান্তির পথ দেখিয়ে ছিলেন। কোন মানুষের সাথে যার কোন তুলনা চলেনা, যিনি ছিলেন একাধারে একজন এতিম, একজন মেষ পালক, একজন শ্রমিক, একজন সফল ব্যবসায়ী, একজন রনকৌশলী যোদ্ধা, একজন সেনাপতি, একজন ন্যায় বিচারপতি, একজন শিক্ষক, একজন রাজনৈতিক নেতা, একজন গভর্ণর, একজন বৈজ্ঞানিক, একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক।
তাই বলা যায়, খাদিজার নিষ্ঠাবান বিশ্বাসীত কর্মচারী হতে খাদিজার প্রাণপ্রিয় স্বামীরূপে শেষ নবী। স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে প্রকৃত সংসারী শেষ নবী হতে হেরা গুহায় মোরাকাবায় ধ্যানস্থ শেষ নবী। মককার মাটিতে অত্যাচারিত বন্দী শেষ নবী হতে মককার শাসনকর্তা শেষ নবী। মককার লালিত শেষনবী হতে মদীনার বাতি শেষ নবী। বদরের যুদ্ধে বিজয়ী শেষ নবী হতে ওহুদের যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত ক্ষতবিক্ষত শেষ নবী। কোথাও দয়ার সাগর, বিশ্বকরুনা ক্ষমার মূর্ত প্রতীক শেষ নবী। কোথাও সবলের নিকট বীর বেশে শেষ নবী।
জীবনের এ বহু বিচিত্র বিশাল মুক্ত প্রাঙ্গনে একটি মানুষের চরিত্রকে জানার আর কোনই অসুবিধে নেই। যার যেদিকে ইচ্ছে, তিনি সেদিকেই জেনে নিতে পারেন। এদিকে লক্ষ্য রেখে শেষনবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য গুণাগুন এক নিমেষে যা অবলোকন করা যায়, তা সমগ্র মানব মন্ডলীর ও অখন্ড মানবতার এক চূড়ান্ত উত্তরণ। মককার জোতি আরবের বাতি বিশ্বসভার সভাপতি জনাবে রাসূল্লাহ (সাঃ) যিনি ছিলেন সর্বগুনের সমাহার, মহানবী (সাঃ) এর অগণিত বৈশিষ্ট্য, গুণ ও মর্যাদার মধ্যে এখানে অল্পকিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী নিম্নে পেশ করা হল।
১) নবী করিম (সাঃ) বলেন, “আমি তখনই নবী ছিলাম, যখন আদম রুহ ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্তায় ছিল।” মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট মহানবীর (সাঃ) ফজিলত ও মর্যাদা এতো উচ্চে যে, তাঁর উল্লেখ সমগ্র নবীগণের নিকট প্রথমেই করা হয়। সকল নবীগণের নিকট থেকে তারই ব্যাপারে অঙ্গীকার নেয়া হয়। (২) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রথম মুসলমান,  মহান আল্লাহ তায়ালার মহান বানী হচ্ছে “হে নবী! তাদের কে বল! তোমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, দ্বীন কে আল্লাহর জন্য খাঁটি ও নিষ্ঠাপূর্ণ করে দিয়ে আমি তাঁরই বন্দেগী করব। আর আমাকে হুকুম করা হয়েছে যে, সভার আমি নিজেই মুসলিম হব (সূরা আযযুমার, আয়াত নং-১১,১২)”। (৩) বিশ্বনবী (সাঃ) কে নাম ধরে ডাকা যাবে না মহান আল্লাহ তালার নিকট মহানবী (সাঃ) এর এতো উচ্ছ মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে যে, তিনি নবী পাক (সাঃ) কে সরাসরি নাম ধরে ডাকতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে এভাবে আহব্বান করা হয়েছে। এয়া রাসূলাল্লাহ (সঃ)! এয়া নবীয়াল্লাহ! “তোমাদের সৎকায্য সমূহ যেন বরবাদ হয়ে না যায়, এমন ভাবে যে, তোমরা টেরও পাবেনা (সূরা আল হুজরাত আয়ত নং ৩ আংশিক)”। (৪)মহানবী (সাঃ) এর হায়াত এবং শহরের নামে কসম করা হয়েছে মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবী (সাঃ) এর জীবন কাল বা হায়াতের এবং তিনি যে নগরীতে বাস করতেন, তার কসম বা শপথ করার মাধ্যমে মহান নবীর শান ইজ্জত ও বৈশিষ্টের নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। মহান আল্লাহর বানী “তোমার প্রাণের শপথ হে নবী! এ সময় তাদের উপর একটি নেশার মতো সওয়ার হয়ে বসেছিল, যাতে তারা আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিল (আল্ হিজর- আয়াত নং-৭২)”। (৬) সর্ব প্রথম মহানবী (সাঃ) তাঁর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে মহানবী (সাঃ) এর নাম আরশে আজীমে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। মহানবী (সাঃ) এর জন্যই এই জগৎ সৃষ্টি করা হয়েছে। (৭) সমস্ত আসমানী কিতাবে মহানবী (সাঃ) সমস্ত আসমানী কিতাবে মহানবী (সাঃ) এর শুভ আগমনের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। (৮) পবিত্র মিরাজে গমন সহ স্বসমানে আল্লাহর দিদার লাভ করেছেন। (৯) নামাজে, আযানে, ইকামতে বিশ্বনবী (সাঃ) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। (১০) মহানবী (সাঃ) এর দেহ মোবারক থেকে খুশব বের হত, এবং পরকালে সর্বপ্রথম তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (১১) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সকল প্রকার বদ অভ্যাস থেকে মিথ্যাকে সর্বাধিক ঘৃণা করতেন (বাইহাকী শরীফ)। (১২) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শোয়ার সময় ডান কাতে শুতেন এবং স্বীয় ডান হাত গালের নীচে রাখতেন। যখন তিনি বিনা গোসলে ঘুমাবার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি উজু করে নিতেন। আর ওই অবস্থায় যদি কোন কিছু খাবার ইচ্ছা করতেন, তবে দু’ হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে খেতেন (তিরমিযী, আবুদাউদ, নাসাই, ইবনে মাজাহ)। (১৩) তাকে কেউ বকা বা কূট কথা বললে অথবা কস্টকর কথা বললে, তিনি তার উত্তর হাসিমুখে দিতেন। (১৫) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শ্রেষ্ট নবী ও ইমামুল  আম্বিয়া তাকে অগণিত মু’জিযা প্রদান করা হয়েছে- বিশ্বজ্ঞানের ভান্ডার আসমানী বিতাব “আল কুরআন” হল শ্রেষ্ট স্থায়ী মু’জিয়া। (১৬) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর শরীয়ত স্থায়ী ও অপরিবর্তিত এবং অন্যান্য নবীগণের শরীয়ত অস্থায়ী। (১৭) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সম্মান : ফিরেস্তাগনের পক্ষ হতে দরুদ ও সালামের মাধ্যমে তাঁকেই সম্মান দান করা হয়েছে যা অন্যান্য নবীগণকে দেয়া হয়নি। (১৮) দুনিয়াতে জিব্রাঈল (আঃ) কে তাঁর আসলরূপে একমাত্র নবী করিম (সাঃ) দেখতে পেরেছিলেন, এই বরকত অন্যান্য নবী গণ পাননি। (৯) সূরা ফাতিহা দান করা সহ অন্যান্য কিতাবের সত্যায়ন কারী হিসেবে নবী করিম (সাঃ) কে প্ররণ করা হয়েছে। (২০) বিশ্বনবী (সাঃ) কঠিন কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হলে তাৎক্ষণিক ভাবে মহান আল্লাহ আসমান থেকে তার সমাধান দিতেন। (২১) কিয়ামতের ময়দানে নবী করিম (সাঃ) মুখে পবিত্র কোরআন সব উম্মাতগণ শুনতে পাবেন, এবং মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম তাঁকেই জান্নাতের ভিতর প্রবেশের অধিকার দিবেন। (২২) মহাবীর জনাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পরে আর কোন নবী রাসূর এই জগতে আসবে না। এবং কোন ওহী ও নাযিল হবে না। তার মাধ্যমেই নবুয়তের ধারা পরিসমাপ্তি করা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, আমরা শ্রেষ্ট নবীর শ্রেষ্ট উম্মাত, বিশ্বনবীর শান, মু’জিযা, বৈশিষ্ট ও গুণাগুন এত অধিক যা সংক্ষিপ্ত পরিসরে ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি, আমরা যেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আর্দশ মেনে খাটি “উম্মাতে মুহাম্মাদী” হতে পারি মহান আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন ॥” আমিন।  
লেখক- বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কোরআন ও প্রভাষক, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ, শরণখোলা, বাগেরহাট


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৩০



আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫


বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮





ব্রেকিং নিউজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০২