খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জোয়ারের তোড়ে দাকোপের বিভিন্ন স্থানে ওয়াপদার ভেড়ীবাঁধে ফাটল : আতঙ্কে মানুষ

দাকোপ প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৯:০০

গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আতঙ্কে দাকোপ উপকূলীয় এলাকার দেড় লক্ষাধিক মানুষ। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়। এ লক্ষে ৯টি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় একাধিক টিম গঠন করে। দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা রাখা হয়। উপজেলা প্রশাসন, সিপিপি ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ মন্দির গীর্জা থেকে মাইকিং-এর মাধ্যমে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া স্থানীয় নদ-নদীতে স্বাভাবিক অপেক্ষা ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং নৌ-পথে চলাচলকারী লঞ্চ, ট্রলার, জাহাজ সহ সকল প্রকার নৌযানগুলিকে নিরাপদ আশ্রয়ের নোঙ্গর করে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিদের্শনা দেয়া হয়।  
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ ঘূর্ণিঝড় মোবাবেলায় উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে জরুরি বরাদ্দ হিসেবে ২ লক্ষ ৫০ হাজার নগদ টাকা, ৫০ টন চাল ও ৭ শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার উপজেলার দেওয়া হয়। ১০৫টি সাইক্লোন শেল্টারের পাশাপাশি উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ডের কয়েকটি জাহাজ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখ হয়। 
চালনা মাসুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া চালনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা ক্লোনির উপর বসবাসকারী সত্তোর উর্ধ্ব শফি পাটোয়ারী বলেন, বয়স হয়েছে, চোখে তেমন একটা দেখতে পারি না। বুলবুল আতঙ্কে জীবন বাঁচতে পরিবার পরিজনের সাথে মাসুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছি। আমি এখানে এসে হঠাৎ কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে এখানে অবস্থানরত মেডিকেল টিমের সদস্যরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। আর সরকারি সহয়তা হিসেবে সুকনা খাবার চিড়ে, মুড়ি ও গুড় পেয়েছি। শফি পাঠোয়ারীর মত ওই সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া চাঁন মিয়া (৬৫), রাবেয়া বেগম (৭০), আকলিমা বেগম (৬৮), হান্নান খলিফা, তারা একই ভাবে সকল সহযোগী পাচ্ছেন বলে শিকার করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার ৯টি ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তারা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় মাইকিং-এর মাধ্যমে জনগণকে বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে পাঠানো এবং সকল সাইক্লোন শেল্টার খোলা রাখা হয়েছে। প্রতিটি সাইক্লোন শেল্টারে ইতমধ্যে ২ থেকে ৩শ’ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে বিভিন্ন স্থানের ওয়াপদার ভেড়ীবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কান্তি ব্যানার্জী বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক সতর্কতা নেয়া হয়েছে এবং উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়ীবাঁধগুলি রক্ষায় বাঁধের পাশে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও মাটি ফেলা হচ্ছে। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ জানান, দাকোপে ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ১০৫টি সাইক্লোন শেল্টারে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লোক আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। উপজেলার বিভিন স্থানে মাইকিং করে সিপিপির ১৩৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবীরা জনসাধারণকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিংসহ চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে।
 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ