খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাব 

পাইকগাছায় রাস্তা-ঘাট ফাঁকা  আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ হাজার লোক 

তৃপ্তি রঞ্জন সেন, পাইকগাছা | প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৩:০০

পাইকগাছায় রাস্তা-ঘাট ফাঁকা  আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ হাজার লোক 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর প্রভাবে গত শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিরামহীনভাবে শনিবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সাথে রয়েছে হালকা বাতাস। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আসা-যাওয়ার মধ্যে রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সকালের দিকে লোকজন একটু বের হলেও বিকেলে রাস্তা-ঘাট একেবারেই ফাঁকা। বুলবুলের কারনে পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ৩৬টি সাইক্লোন সেল্টারের পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষনা করে খোলা হয়েছে। প্রস্তুত স্কাউট, গালর্স গাইডসহ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যদের। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু মায়ের চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করলেও সার্বক্ষণিক এলাকাবাসীর খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে দুর্যোগ মোকাবেলায় সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনকেও সকল প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এবং এলাকার বিভিন্ন মসজিদ থেকে দিনব্যাপী মাইকিং করে সকলকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 
এদিকে গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এমদাদুল হক শেখ, ওসি (তদন্ত) রহমত আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে লোকজনের নিরাপদ আশ্রয়ে আসার অনুরোধ জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে মজুদ রাখা হয়েছে শুকনো খাবার সামগ্রী। উপজেলার লতা, দেলুটি, সোলাদানা ও গড়ইখালীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫ হাজার লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আসেন বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান। 
অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানান, ভ্রাম্যমাণ ৫ টি, জরুরি বিভাগের জন্য ১টি ও ১০টি ইউনিয়নে ১০টিসহ মোট ১৬ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ওসি মোঃ এমাদদুল হক শেখ জানিয়েছেন, থানার গাড়ি দিয়ে বিভিন্ন এলাকার লোকজনদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথায়ও কোন বড় ধরনের খবর পাওয়া যায়নি। 
পৌরসভার প্যানেল মেয়র এস এম ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, পৌরসভায় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য চিড়া, গুড় ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, বিকেল থেকেই কেন্দ্রগুলিতে লোকজন আসতে শুরু করেছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ