খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব : নিহত ২

উপকূল অতিক্রম করেছে ‘বুলবুল’

খবর ডেস্ক  | প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯:০০

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। তবে তা পশ্চিমবাংলা ও খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে মধ্যরাত লাগতে পারে বলে অধিদপ্তরের তথ্য। যদিও সাতক্ষীরা ও মোংলায় অবস্থানরত সাংবাদিকরা রাত সাড়ে ১১টায় জানিয়েছেন সেখানকার পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আগেই ভাটা শুরু হয়ে যাওয়ায় নদীতে পানির উচ্চতা কমেছে।  
শেষ খবর পর্যন্ত রাত পৌণে ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ঝালকাঠি এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেতের আওতায় থাকবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এর আগে বকখালি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার রাত নয়টার দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ ও সাগরদ্বীপ হয়ে স্থলভাগে ঢুকে পড়ে এই ঘূর্ণিঝড়। এদিকে সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যায় বুলবুল। রাজ্যের আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায় স্থলভাগে ঢোকার সময় ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারের আশেপাশে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় কিছুটা শক্তি হারিয়ে ফেলে ‘বুলবুল’। ইতোমধ্যে স্থলভাগে ঢোকার পরেই অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় থেকে শুধুমাত্র ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয় সে। রাত সাড়ে আটটায় কলকাতায় ঝড়ের গতি রেকর্ড হয়েছে ৫৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ