খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

ইয়া নবী সালাম ‘আলাইকা,  ইয়া রসুল সালাম ‘আলাইকা

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ইয়া নবী সালাম ‘আলাইকা,  ইয়া রসুল সালাম ‘আলাইকা

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ)। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে সাইয়িদুল মুরসালিন খাতামুন নাবিইন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) জন্মগ্রহণ করেন পবিত্র মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে। তাঁহার পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। আরবি ‘ঈদ’ অর্থ আনন্দ বা খুশি। আর ‘মিলাদুন্নবী’ অর্থ নবীর (সঃ) জন্ম। অর্থাৎ মহানবীর (সঃ) জন্মদিনের আনন্দ উৎসবের নামই ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ)। একই দিনে তিনি ৬৩ বৎসর বয়সে মদীনা মোনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন। এইজন্য সারা বিশ্বের মুসলমানগণ তাঁহার এই জন্ম-ওফাতের দিনটিকে অত্যন্ত মর্যাদার সহিত পালন করে থাকে। বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা, প্রতিষ্ঠান ও বাসায় বাসায় দোয়া মাহফিল ও মহা নবীর উপর আলোচনার মাধ্যমে পালিত হয় এই দিবসটি।
সকল দিবসই আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি। তবে কোনো কোনো দিবস আছে যাহার মর্যাদা অপরিসীম। ১২ রবিউল আউয়াল যেই দিন ও যেই মুহূর্তে মহানবী (সঃ) এই ধূলির ধরায় তাশরিফ আনেন, সেই দিন ও মুহূর্তটি বিশ্বজগতের জন্য মহানন্দের দিন। কেননা তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ। আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে রহমাতুল্লিল আলামিন বা সমগ্র বিশ্বের রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেয়াছেন। তিনি বিশ্ব মানবতার প্রতীক ও সত্য-সুন্দরের বাণীবাহক। তাঁর পরশপাথরে যাযাবর ও বর্বর আরবজাতি একটি সুমহান জাতিতে পরিণত হয়। তিনি উৎপীড়িত-নির্যাতিত মানুষ, অনাথ, দাস, কন্যাশিশু, বিধবা নারী ও গরিব-দুঃখী সকলের ছিলেন অকৃত্রিম বন্ধু। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে হেরা গুহায় নবুয়ত লাভের পর তিনি ইসলামের বাণী প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। এ কসময় তিনি অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে আল্লাহর নির্দেশে মদীনায় হিজরত করেন। তাঁর তাওহীদের বাণী প্রচারে আরব জাহানে নবজীবন সঞ্চারিত হয়, নূতন সভ্যতা-সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটে এবং উদ্ভব ঘটে এক নূতন জীবনব্যবস্থার। অচিরেই এই নূতন সভ্যতা এবং ঐক্য, শান্তি, সাম্য ও মানবকল্যাণের চিন্তাচেতনা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সার্বিক চিন্তা ও জীবনধারাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। নবুয়ত প্রাপ্তির মাত্র ২৩ বৎসরের ব্যবধানে এত বড় সাফল্য আর কোনো নবী-রাসূল বা মহাপুরুষ অর্জন করতে পেরেছেন ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই।
মহান আল্লাহ কুরআনুল কারীমের সূরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে বলেন, ‘(হে নবী) আপনি বলুন, মানুষের উচিত আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁহার রহমতের জন্য আনন্দ প্রকাশ করা। কারণ তারা যা কিছু সঞ্চয় করে (জ্ঞান ও সম্পদ), ইহা তার চাইতে উত্তম।’ অনেকে মনে করেন, আল্লাহর হাবীব (সঃ) আগমনই হল সর্বোচ্চ নিয়ামত। এই জন্য ঈদে মিলাদুন্নবীতে (সঃ) খুশি ও আনন্দ প্রকাশের নির্দেশ দিয়াছেন তিনি। অতএব, ঈদে মিলাদুন্নবীতে (সঃ) আমরা বেশি বেশি করে দরুদ শরীফ পাঠ করব। তাঁর অনুপম আদর্শে গড়ে তুলব নিজেদেরকে। আমরা সবুজ শ্যামল বাংলার প্রান্তর হতে সেই মহামানবের উদ্দেশে জানাই লাখো কোটি দরুদ ও সালাম ইয়া নবী সালাম ‘আলাইকা, ইয়া রসুল সালাম ‘আলাইকা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ

বান কি মুন ঢাকায়  আসছেন আজ

বান কি মুন ঢাকায়  আসছেন আজ

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৪