খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষনা কলারোয়া

শুক্রবার এলেই উপজেলা পরিষদ মসজিদের সামনে বসে ভিক্ষুকদের মিলন মেলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

শুক্রবার এলেই উপজেলা পরিষদ মসজিদের সামনে বসে ভিক্ষুকদের মিলন মেলা

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাকে প্রাথমিকভাবে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষনা করা হলেও শুক্রবার এলে খোদ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের মসজিদের সামনেই বসে যেন ভিক্ষুকদের মিলন মেলা। সপ্তহের অন্যদিন গুলোতে একটু কম হলেও শুক্রবারে ভিক্ষুকদের আধিক্যতা বেড়ে যায়। দিনভর বাজারের দোকানদার, ব্যবসায়ী, বাসা-বাড়ির সামনে ভিক্ষুকদের সরব উপস্থিতি লক্ষনীয়। তাদের হাত পাতার কাছে রীতিমতো অসহায় সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন, কলারোয়া উপজেলাকে কয়েকবছর আগে ‘ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা’ ঘোষণা করা হলেও আজো তা বাস্তবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শুক্রবার খোদ উপজেলা মসজিদের সামনে জুম্মার নামাজের পরে ভিক্ষুকরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এমন দৃশ্য অন্য মসজিদ গুলোর সামনেও। এমনকি সকাল থেকে বাজারের দোকান গুলোতে পর্যায়ক্রমে ভিড় জমায় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিক্ষুকরা। আর পুরুষ ভিক্ষুকরা জুম্মার নামাজের সময় শেষের কাতারে অবস্থান করেন, ফরজ নামাজের সালাম শেষে হতেই তারা মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে যান।
তারা আরো জানান-ভিক্ষুকরা এখন আর ভিক্ষা চান না, সকলেই এসে ‘সাহায্য’ চান। এসকল ভিক্ষুকদের অধিকাংশ ব্যক্তিই কর্মক্ষম। কাজ করার কথা বললে তারা নানান অজুহাত দেখান। কয়েকজন দোকানদার জানান, তাদের অনেকে ১ টাকার কয়েন দিলে নিতে চান না, কমপক্ষে ২টাকার কয়েন দিতে হয়। এসব দেখে সাধারণ মানুষ মন্তব্য করে বলেন, কলারোয়া উপজেলা ‘ভিক্ষুকমুক্ত, ঘোষনা হয়েছে, তবে কী ফকিরমুক্ত হয়নি? উপজেলা সদর শুক্রবার দিন ‘ফকিরবার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এসব ফকিরেরা বেশ নিয়ম মেনে ভিক্ষা করেন। তাদের মধ্যে সারিবদ্ধ শৃংখলাও দেখা যায়।
তবে সপ্তাহের অন্য দিন এসকল ভিক্ষুকরূপী ফকিররা কলারোয়া পৌরসদরের দোকানীদের তেমন বিরক্ত করেন না। তবে শুক্রবার জুম্মার দিনে সকাল থেকেই শুরু হয় দলবেঁধে ভিক্ষা করা। তারা দলবেঁধে ও এককভাবে বাজারের দোকানে দোকানে গিয়ে ভিক্ষার টাকা সংগ্রহ করেন। জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলা মসজিদ, থানা জামে মসজিদ, কাছারী মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড মসজিদ, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদের সামনে তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়। 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভিক্ষুকমুক্ত করণ প্রকল্পে এদের অনেকে সহায়তাপ্রাপ্ত। তবে পেশা আর নেশায় অনেকে এটা ছাড়তে পারছেন না। অনেকে আবার বেশ স্বচ্ছল তবুও ভিক্ষা করে। বাসা-বাড়ির বাসিন্দারা জানান, ভিক্ষুকরা এখন আর চাল নিতে চান না। তারা টাকা দাবি করেন। এক টাকা দিলে খুব একটা নিতে চায় না। তবে ভিক্ষুকদের পরিচয় জানাতে চাইলে তারা অধিকাংশ অন্য উপজেলার বাসিন্দা বলে জানান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ