আতঙ্কে গোটা উপকূলবাসী 


ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ধেয়ে আসার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ‘সিডর’ বিধ্বস্ত বাগেরহাটের শরণখোলা, মোংলা, রামপাল, পাইকগাছা, কয়রাসহ সাতক্ষীরা উপকূলবাসী। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের মতো একইভাবে এই ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হওয়ায় মানুষ বেশি আতঙ্কিত। নদ তীরবর্তী ভেড়ীবাঁধের বাইরে এবং বাঁধের কাছাকাছি বসবাসকারীরা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। 
এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পাশাপশি গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হচ্ছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে মোংলা বন্দর, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভায় কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। অপর দিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার এক জরুরি আদেশে উপকূলীয় জেলাগুলোর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিলেও শরণখোলার (পিআইও)’র কার্যালয়টি ছিল গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তালাবদ্ধ। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ। 
শরণখোলা প্রতিনিধি জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে দমকা বাতাস আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। শরণখোলাসহ উপকূল জুড়ে সিডরের পূর্বমুহূর্তের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করে সতর্কতামূলক প্রচারণায় নেমেছে। এছাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রনজিৎ সরকার শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, বৃহস্পতিবার অফিস শেষে অধিদপ্তরের চিঠি পেয়েছি। তাই কর্মস্থলে কারো থাকা  সম্ভব হয়নি। তবে আজ ৮ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে ।
সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন ও রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, ইউনিয়ন পরিষদে জরুরি সভা করে পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা এবং ইউডিএমসির সদস্যদের দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের শুকনা খাবার মজুদ রাখাতে বলা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে জানান তারা। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রশাসনের সকল বিভাগকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। 
মোংলা প্রতিনিধি জানান, ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। যা মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬শ’ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাগরে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের আশপাশ এলাকা খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এটি আরো শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামীকাল শনিবার দুপুরে এ বন্দরে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে, তবে বাতাসের গতিবেগ তেমন না বাড়লেও সাগর রয়েছে উত্তাল। মোংলা বন্দর ও বন্দরে অবস্থানরত সকল বাণিজ্যিক জাহাজ  শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পশুর নদীতে সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমুহকে নিরাপদে সরে আসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরে খোলা হয়েছে তিনটি কন্ট্রোলরুম। বন্দরে এই মুহূর্তে মেশিনারি, ক্লিংকার, সার, জিপসাম, পাথর, সিরামিক ও কয়লাসহ দেশি বিদেশি মোট ১৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য খালাসে সতর্কতা জারি করা হবে বলেও জানান বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন। ‘বুলবুল’র প্রভাবে কন্ট্রোল রুম খুলেছে মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপজেলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছি। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপজেলার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র (সিপিপি) ৬৬টি ইউনিটের ৯শ’ ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলায় জরুরি সভা করা হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিন কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব মোকাবেলায় সকল বনরক্ষীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রেঞ্জ অফিস থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাগরপাড়ের আলোরকোল ও দুবলার চরে অবস্থান নেয়া সকল জেলেদের পরবর্তী নিদের্শনা না পাওয়া পর্যন্ত সাগরের গহীনে মাছ ধরতে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছে। তাছাড়া বঙ্গোপসাগরসহ সুন্দরবনের নদী-খালে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয় যেতে এবং সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। 
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, উপকূলীয় উপজেলাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে স্ব স্ব এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন নদীখালে থাকা নৌযানগুলিকে উপকূলে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। 
তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে জেলায় ২৭০টি আশ্রয় শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১২৫২টি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ফাঁকা করে রাখা হয়েছে। শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলকার জনগণকে শনিবার বেলা ১১টার মধ্যে এসব আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তায় ১১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১ লাখ টাকা, ৮শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৭ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পানীয় জল, ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও রেডক্রিসেন্ট বাহিনী, ৮৫টি মেডিকেল টিম, নৌ ও স্থলযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 
একই ভাবে পুলিশ, বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব ও বিজিবি’র পক্ষ থেকেও উপকূলীয় এলাকায় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরো জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অপরদিকে, সুন্দরবনের দুবলার চরে রাসমেলায় অংশগ্রহণেচ্ছু পুণ্যার্থীরা সম্ভাব্য দুর্যোগের কারণে যাত্রা বন্ধ করেছেন। জেলা প্রশাসন থেকে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। এর আগে দুপুরে উপকূলীয় সব উপজেলায় নির্বাহী অফিসারগণ প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন।
দাকোপ প্রতিনিধি জানান, গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আতঙ্কে দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিংসহ চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের সকল সাইক্লোন শেল্টার ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খানের সভাপতিত্বে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা আকতার, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের, উপজেলা প্রকৌশলী ননী গোপাল দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের, প্যানেল মেয়র আঃ গফুর সানা, প্রেসক্লাব সভাপতি শচীন্দ্র নাথ মন্ডল, কাউন্সিলর দেবাষিশ ঢালী, সাংবাদিক মোঃ শিপন ভূঁইয়া, এস এম মামুনুর রশিদ, ইউপি সদস্য জ্যোতিশংকর রায়, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।
পাইকগাছা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খোলা রাখা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্কাউট, গালর্স গাইডসহ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ে নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়নার সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় দুর্যোগ মোকাবেলায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়ীবাঁধ ও আশ্রয়ন কেন্দ্রের যাতায়াতের রাস্তা দ্রুত সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া সবাইকে প্রস্তুত থাকার জন্য এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে। মজুদ রাখা হয়েছে শুকনো খাবার। যেকোন প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, ইউপি চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান, ইউপি সদস্য জগন্নাথ দেবনাথসহ জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ। 
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। রাতে হালকা বৃষ্টি হলেও গতকাল শুক্রবার দিনভর মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত হয়। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার লতা, দেলুটি ও গড়ইখালীর বিভিন্ন এলাকার লোকজন আশ্রায় কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ হাত থেকে রক্ষা ও করণীয় নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার সঞ্জীব দাশের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন, প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ প্রমুখ। সভায় সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বিষয়ে সতর্কীকরণ ও জনগণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে বলা হয়। 
চিতলমারী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় চিতলমারী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি সভা করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে মিটিং করে তার রেজুলেশন উপজেলায় প্রেরণ, প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং, উপজেলার ১৭টি সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা, উপজেলায় একটি ও ৭ ইউনিয়নে ৭টি কন্ট্রোল রুম খোলা, ৮টি মেডিকেল টিম গঠন, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো খোলা রাখা, শুকনা খাবার ও পানীয় জল এবং আলোর ব্যবস্থা রাখা, মসজিদের মাইকের মাধ্যমে প্রচার, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন, সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল, গ্রাম পুলিশ রাতে ডিউটিরত থাকবেন ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল। উপস্থিত ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মামুন হাসান মিলন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অসীম কুমার দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ ঘোষ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন শেখ, কাজী আজমীর আলী, খাদ্য পরিদর্শক আদুরী রাণী ব্রহ্ম, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আল আমিন লিটন, সাংবাদিক এস এস সাগর, সাংবাদিক দেবাশিষ বিশ্বাস ও ইউপি সদস্য পলাশ কান্তি মন্ডল।   


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।