খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা  অভিযোগগুলো আমলে নেয়া জরুরি

০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা  অভিযোগগুলো আমলে নেয়া জরুরি


পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সংস্থাটি একদিকে শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলেও লোডশেডিং চরমে। আরইবি’র এই ব্যর্থতায় বহু শিল্প-মালিকের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। শিল্প-মালিকরা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে গিয়ে নালিশ করছেন, প্রতিকার চাইছেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হচ্ছে না। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হল, আরইবি’র চেয়ারম্যান কোনো অভিযোগকেই পাত্তা দিচ্ছেন না। 
আরইবি’র ব্যর্থতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা একটি উদাহরণ দিয়েই বোঝা সম্ভব। এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তার একটি কারখানায় একবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে ৫২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়, তার যেহেতু পাঁচটি কারখানা রয়েছে, তাই মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একবার বিদ্যুৎ গেলে পরবর্তী উৎপাদনে যেতে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া কম্পিউটারাইজড মেশিনারিজগুলো চালু অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে সফটওয়্যার সিস্টেমও নষ্ট হয়ে যায়। এতে বেড়ে যায় ক্ষতির পরিমাণ। এই শিল্পপতি আরও বলেছেন, তার কারখানায় দুই মাসে ২৩ বার লাইন ট্রিপ করেছে, এখন তা আরও বেড়ে গেছে।
সমস্যাটা আসলে কোথায়? সরকার আরইবি প্রতিষ্ঠা করেছিল গ্রামাঞ্চলগুলোকে আলোকিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে। এছাড়া গ্রাম এলাকার সর্বোচ্চ ২-৩ মেগাওয়াট চাহিদার ছোট ছোট কুটির শিল্পে বিদ্যুৎ দেয়াও ছিল অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি বোর মৌসুমে সেচ সুবিধা মেটাতে পল্লী বিদ্যুতের বিকল্প কিছু আশা করা যায় না। তবে শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব আরইবি’র নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর একটি সিন্ডিকেট নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ না দিয়ে শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ দেয়া শুরু করে। দেখা গেছে, যেখানে ১০ মেগাওয়াটের চেয়ে বেশি বিদ্যুতের চাহিদা, সেখানেও আরইবি বিদ্যুৎ দিচ্ছে। ফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে পুরো দেশের শিল্প-কারখানায়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে শিল্প-মালিকদের অনেকেই যখন ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন, তখন আরইবি কর্তৃপক্ষের উদাসনীতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আরইবি চেয়ারম্যানের সাফাই ও শ্র“তিকটু। তিনি বলছেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় না। এ কথা সত্যের অপলাপ মাত্র। দ্বিতীয় কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টা ও উদ্যোগে দেশের বিদ্যুৎ খাতের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে যখন, তখন আরইবি চেয়ারম্যানের কথা ধোপে টেকে না।
আমরা মনে করি, আরইবি’র ব্যর্থতার জায়গাগুলো শনাক্ত হওয়া দরকার। সংস্থাটির পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না করা গেলে প্রশ্ন উঠতে পারে? তবে কি দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই কোনো কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র কাজ করছে আরইবি’র ব্যর্থতার পেছনে? কাজেই আরইবি’র ত্র“টিগুলো শনাক্ত হওয়া খুবই জরুরি। সাথে সাথে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনও অত্যন্ত জরুরি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ