খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ফের ভাঙ্গন আতংকে সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ফের ভাঙ্গন আতংকে সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে সাতক্ষীরায় শুক্রবার ভোর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বেলা সাড়ে ১২ টার পর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অদিপ্তরের ৪নং সতর্ক সংকেত অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আতংকে চরমভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন জেলার উপকূলীয় নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ। সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ খুবই ঝুকিপূর্ন। এসব বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গন ও ফাঁটল থাকার পরও গত কয়েক বছরে তা সংস্কার না হওয়ায় পাউবো’র অধিকাংশ বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন ও ফাঁটল আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘুর্নিঝড় বুলবুল আঘাত হানলে জলোচ্ছাসে জেলার কপোতাক্ষ নদ, খোলপেটুয়া, ইছামতি ও বেতনা নদীর ঝুকিপূর্ণ এসব বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে বিন্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়বে। তলিয়ে যাবে হাজার হাজার বিঘা চিংড়ি ঘের ও ফসলের ক্ষেত।  উৎপাদন ব্যাহত হবে দেশের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ির। ফলে ঘুর্নিঝড় বুলবুল এর আঘাতে ফের ভাঙ্গন আতংকে রয়েছে সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।
আশাশুনির বিছট গ্রামের আব্দুল হাকিম মোড়ল জানান, সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ নং পোল্ডারে বিছট গ্রামের মোকলেছ মোড়লের বাড়ির সামনে বাঁধে মারাত্মক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন আগে নদীর প্রবল স্রোতে প্রায় দেড়’শ মিটার বাঁধ হঠাৎ করে নদী গর্ভে ধ্বসে পড়ে। সেই থেকে গ্রামবাসী নিজেরা টাকা তুলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করে কোন রকমে বাঁধটি টিকিয়ে রেখেছি। প্রতিদিন বাঁধে মাটি দিতে হচ্ছে। খবর পেয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে বাঁধের অবস্থা দেখে গেছেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর খবরে গ্রামবাসী চরমভাবে আতংকিত হয়ে পড়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে এই বাঁধ কোন ভাবেই টিকে থাকবে না। ইতিমধ্যে ভয়ে গ্রামের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে শুরু করেছে।
সাতক্ষীরা পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ ও ২ এর অধীনে ১১ টি পোল্ডারে ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ৭০ টি পয়েন্টে ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ। এর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুকিপূর্ণ। বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। 
সাতক্ষীরা পাউবো বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, ঘুর্নিঝড় বুলবুল  নিয়ে আমরা বেশ আতংকিত। তবে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা জন্য তারা প্রস্তুত নিচ্ছে। এ  বিভাগের অধিনে ৩৮০ কিলোমিটর ভেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১০টি পয়েন্টে অধিক ঝুপিপূর্ন ভেড়িবাঁধের পরিমান প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং ঝুকিপূর্ন বেড়িবাঁধ ৩০ কিলোটারের মত। 
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী  প্রকৌশলী আরিফ উজ জামান খান জানান, বুলবুল মোকাবেলায় তার বিভাগে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ বিভাগের আওতাধীন ৪২০ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি পয়েন্টে ১২কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুকিপূর্ণ এবং প্রায় ২০০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুকিপূর্ন রয়েছে। 
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ বদিউজ্জামান (সার্বিক) জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জেলার ১৩৭টি আশ্রয় কেন্দ্র ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ এলাকায় মাইকিং করে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য জানানো হয়েছে। এছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলায় বেলা ১১টায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ