খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ফের অবস্থান আন্দোলনকারীদের

জাবি ভিসি’র দুর্নীতির যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে : সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান

০৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৭:০০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ মঞ্চের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা বলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান। প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ার করেছেন, দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে, মিথ্যা অভিযোগ তুললে অভিযোগকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে। এর বিষয়ে অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আন্দোলনের প্রথম থেকে আমরা তদন্ত চেয়ে আসছিলাম। গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনরতদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনায় উপাচার্য তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কেননা তদন্ত করতে হলে তাকে সরে যেতে হতো। তদন্ত না করার সিদ্ধান্তে আমাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।’
রায়হান রাইন বলেন, ‘উপাচার্যের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে প্রাথমিক প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারায় যারা যুক্ত ছিলেন, গণমাধ্যমে তাদের স্বীকারোক্তি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক যেসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অর্থ কেলেঙ্কারির সংবাদ প্রকাশ করেছে, সেগুলো প্রাথমিক তদন্তের জন্য যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি।’
সরকার এই প্রমাণগুলো আমলে না নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন অধ্যাপক রায়হান। তিনি বলেন, ‘তথ্য-প্রমাণগুলো আমলে নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কার্যকরী তদন্ত হলে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হবে। এর মাধ্যমে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম উপাচার্য পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন, সেটি প্রমাণিত হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজের ই-টেন্ডার না করে সনাতন পদ্ধতির টেন্ডার, টেন্ডার শিডিউল ছিনতাই,  ছিনতাইয়ের বিচার না করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপাচার্যের দুর্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক রায়হান রাইন। তিনি জানান, ‘অভিযোগগুলো লিখিত রূপে তৈরি করা হচ্ছে।’
উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় তিন মাস ধরে আন্দোলন চলছে। মঙ্গলবার আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘেটছে। হামলায় আট জন শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। এই ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ এবং ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং অফিস বা আবাসিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে ফের অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের বাসভবন ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা পুলিশের সামনেই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাদের পাশে উপাচার্যের বাসভবনের জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে পুলিশ।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ মঞ্চের সংগঠক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, ‘সভা-সমাবেশ-মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আমরা জমায়েত হয়েছি। ওই নিষেধাজ্ঞা দেখেই বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের কতটা ভয় পায়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গান, কবিতা পাঠের মতো কর্মসূচি পালন করবো।’
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনরতরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রতিবাদী কনসার্টের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল সভা-সমাবেশ, মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদী কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ