খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ |

সংকটে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  উত্তরণের উপায় খোঁজা জরুরি

০৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

সংকটে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  উত্তরণের উপায় খোঁজা জরুরি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিসহ শীর্ষপদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের নামে পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুইপক্ষ সক্রিয় থাকায় উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়া সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরেও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে জাহাঙ্গীরনগরসহ তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে বর্তমানে সীমাহীন আর্থিক, প্রশাসনিক ও একাডেমিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সংশ্লিষ্টরা। সরকারি বিধিবিধান না মেনে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে অনেকেই আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি করেছেন সীমাহীন  নৈরাজ্য। এর বাইরে নিয়মবহির্ভুতভাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ঘটনাও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান সংকটের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায় এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প। উল্লেখ্য, এ দুটির সঙ্গেই অর্থের  যোগসূত্র রয়েছে। তাই এ দু’টি বিষয় যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতামুক্ত করা হয়, তাহলে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বজনপ্রীতির বাইরে ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়ায় একদিকে অদক্ষ ও দলবাজদের ভিড়ে সাধারণ প্রশাসনে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, অন্যদিকে অযোগ্য ও মেধাহীন শিক্ষকের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ভবিষ্যৎও ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে, যা থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজা জরুরি।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার বিষয়টি কোনোমতেই মেনে নেয়া যায় না। দেখা যাচ্ছে, এসব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিসি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই নিয়োগ, টেন্ডার, কেনাকাটা, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ এবং ফল জালিয়াতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন।
এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশেষ সুনাম ও মর্যাদা ছিল, যা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। হতাশার বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অতীত গৌরব ও ঐতিহ্যের কোনোকিছুই আমরা ধরে রাখতে পারিনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে শুরু করে অধিকাংশ শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় দলীয় বিবেচনায়। দলের প্রয়োজনে শিক্ষকরা তাই লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেও দ্বিধা করেন না। ফলে শিক্ষাঙ্গণ থেকে ‘বিদ্যার দেবী সরস্বতি’ একরকম নির্বাসিতই বলা চলে; বরং সেখানে এখন প্রবল প্রতাপের সঙ্গে অবস্থান করছে ‘মহিষাসুর ও লক্ষ্মী’। ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষকসুলভ নীতি-আদর্শ ও কর্তব্যবোধ জলাঞ্জলি দিতেও বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হচ্ছেন না। নির্লজ্জভাবে অসৎ উপায় অবলম্বন করে অর্থ ও বিত্তের পানে ধেয়ে চলেছেন। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ