খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ |

মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই নারী পাঠানো নিষিদ্ধ করা হোক

০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই নারী পাঠানো নিষিদ্ধ করা হোক

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত মাইগ্রেন্ট শ্রমিকরা। যারা বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠায়। দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখা এসব মানুষগুলো কতটা নির্যাতিত, নিগৃহীত, নিপীড়িত তার ভয়াবহ চিত্র জানা যায় বিভিন্ন গনমাধ্যমের খবর ও ভিডিও ফুটেজে। বিলিয়ন ডলার আয় করা সেসব মানুষের প্রবাস জীবনের অত্যাচারের গা শিউরে ওঠা নির্মম কাহিনিগুলো কেন যেন রাষ্ট্রযন্ত্র অথবা সাধারণ মানুষ কারও চেতনাকেই খুব বেশি স্পর্শ করে না। অনেক কিছু নিয়ে আবেগ থাকলেও ভাগ্যহত সেই মানুষগুলো আমাদের হৃদয়ানুভূতিতে তেমন দোলা দিতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যের সবকিছু জেনেও সভ্যতার বাইরের এতটা অনিরাপদ জনপদে আমাদের দেশের অসহায় মেয়েদের পাঠিয়ে আমরা কতটা অন্যায় করেছি, তা কি ভেবে দেখছি?
মৃত্যুর ৫৩ দিন পর সৌদি আরব থেকে লাশ হয়ে ফিরেছে মানিকগঞ্জের হতভাগ্য নাজমা। মেয়েটি জীবিত থাকা অবস্থায় দেশে আসার জন্য ছটফট করেছে, বাঁচার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছে। গৃহত্যাগী এই নারী কিছুটা সচ্ছলতার জন্য গৃহকর্মী হিসেবে চাকরি করতে গিয়েছিল বিদেশে। বর্বর সেই দেশ তাকে বাধ্য করেছিল যৌনদাসী হতে। যাদের ভাগ্য কিছুটা সুপ্রসন্ন তারা সম্ভ্রমসহ সবকিছু হারিয়ে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে দেশে ফিরতে পেরেছে অর্ধমৃত জীবনটা নিয়ে। বাকিদের ভাগ্য নাজমার মতোই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়েছে। গত দশ মাসে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ থেকে ১১৯ জন হতভাগ্য নারীকর্মী লাশ হয়ে দেশে ফিরেছে, যাদের বেশিরভাগই যৌন নির্যাতনসহ নানা নির্যাতনে আত্মহত্যা করেছে অথবা নির্মমভাবে তাদের হত্যা করেছে সে দেশের মানুষ নামের ঘৃণ্য জীবগুলো। দরিদ্র দেশ থেকে গৃহকর্মীর নাম করে এসব অসহায় নারীকে নিয়ে বিকৃত আদিম আনন্দে উল্লসিত তারা। অথচ তাদের দেশে আছে শরিয়া আইন। এই আইন প্রয়োগ হয় শুধু প্রবাসী আর রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের জন্য। 
নির্যাতনের অভিযোগে শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, এমনকি পাকিস্থানের মতো রাষ্ট্র যেখানে সৌদি আরবে নারী পাঠানো নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে আমরা উল্টো চুক্তি করেছি তাদের সঙ্গে। চুক্তির আওতায় একজন নারী শ্রমিক পাঠালে তবেই একজন পুরুষ শ্রমিক নেবে তারা। কতটা অসম্মানিত চুক্তি। আমাদের দেশের মানুষ জন্ম থেকেই জেনে আসছে, সৌদি আরব পবিত্র স্থান, সেখানে গিয়ে মরলে জান্নাত নিশ্চিত। তাই সেখানকার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজেদের জান্নাত হারানোর ভয়ে আমরা চুপ করে থাকি। অসহায় নাজমাদের জন্য এ দেশের তৌহিদি জনতার অনুভূতি জাগ্রত হয় না। কারণ দেশটা সৌদি আরব বলে কথা। অথচ অসভ্য সে দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে। এ সত্যটুকু অনেকের বুঝতে, মানতে ও উচ্চারণ করতে কষ্ট হয়। এরা বড় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের দালাল অথচ দরিদ্র দেশের নাগরিকদের মিসকিন, ভৃত্য, চাকর মনে করে। ধর্মীয় লেবাসের অন্তরালে এরা কুৎসিত মানসিক বিকারগ্রস্ত এক একটা যৌন-উন্মাদ। সেই পুণ্যভূমিতে ধর্ষকের বিচার হয় জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে। অথচ আমাদের দেশের হতদরিদ্র নারীরা নিত্য ধর্ষিত হতে থাকে প্রতি মুহূর্তে, যার কোনো বিচার হয় না। 
আমরা মধ্যম আয়ের দেশের গল্প করি, প্রবাসী রেমিট্যান্সের গর্ববোধ করি। কিন্তু কি সহজেই আমাদের দেশের একটু সচ্ছলতার আশায় সেখানে যাওয়া অসহায় সন্তানরা ক্ষুধার্ত নেকড়ের খাদ্যে পরিণত হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই নারীদের পাঠানো নিষিদ্ধ করা হোক। আমাদের জনশক্তিকে এমন দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, যেন পৃথিবীর অন্যান্য সভ্য দেশে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। বিদেশে বসবাসরত সব নাগরিকের সম্মান এবং অধিকার সুরক্ষিত, সমুন্নত থাকুক এই প্রত্যাশা অন্যায্য নয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ