খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন

‘বিখ্যাত আলেম, নারী অধিকার কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ’

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৪:০০

ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক সংস্কারে হাত দিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর কাড়লেও নিজের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীদের ওপর একনাগাড়ে ঘোর নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়ে এসেছেন সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমান। একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে। গেল বছরের অক্টোবরে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনার পর এমন একটি ধারনা তৈরি হয়েছে যে এই নিপীড়নের পথ থেকে তিনি সরে এসেছেন।
কিন্তু সোমবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, যুবরাজের সমালোচকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও তাদের পরিবারকে হয়রানিসহ নির্যাতনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ তাদের পিছু ছাড়ছে না।
নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটির ৬২ পাতার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজ ক্ষমতায় আসার পর সৌদি আরবের বিখ্যাত আলেম, নারী মানবাধিকারকর্মী ও রাজপরিবারের সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক লোক তার নির্যাতনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
২০১৭ সালের জুন থেকে রক্ষণশীল মুসলমান দেশটির কার্যত শাসকে পরিণত হয়েছে বাদশাহ সালমানের এই ছেলে। এই পদোন্নতির পরে সৌদিতে তার রাজনৈতিক উত্থানের পথে কাঁটা হয়ে পড়তে পারে এমন যে কাউকে সম্পূর্ণভাবে কোণঠাসা করে রেখেছেন কর্তৃপক্ষ।
হিউম্যান রাইট ওয়াচ বলছে, সাবেক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্য দিয়ে তার শুদ্ধি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের বিচার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে রয়েল কোর্টের তত্ত্বাবধানেও নিয়ে আসেন তিনি।
এরপর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিক গ্রেফতারি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মুসলিম ধর্মীয় নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীসহ ৭০ জন সমালোচককে কারাগারে পাঠিয়েছেন যুবরাজ। একই বছরের নভেম্বরে অন্তত ৪০ জন অভিজাত যুবরাজ, ব্যবসায়ীকে রিয়াদের রিটজ-কার্লটন হোটেলের আটকে রাখেন তিনি।
অভিযানকে রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডার থেকে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে চালিয়ে দেন পশ্চিমা বিশ্বে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান। পরের বছর মে থেকে তার এই শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছিল। তখন কয়েক ডজন নারী অধিকার কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের অনেককে কারা হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, অভিযানের পাশাপাশি সরকারি সংবাদমাধ্যমে আটকদের নিয়ে নিন্দা ও অপরাদ রটানো হয়েছে। ‘সরকারি নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় শান্তিপূর্ণ সমালোচনার জন্য নাগরিকদের আটক সৌদি আরবে নুুন কোনো ঘটনা না,’ জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ‘কিন্তু ২০১৭ সালের পরবর্তী আটকের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য ও ভিন্ন ধরনের। খুবই কম সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক লোককে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিপীড়নের নতুন চর্চাও প্রবর্তন করা হয়েছে।’ ধরপাকড়ের পাশাপাশি সংস্কারের সঙ্গে আধুনিকতার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। বিশেষ করে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমোদন, পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ ও পাসপোর্ট ইস্যুর করছে তার সরকার।
বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ জানায়, মোহাম্মদ বিন সালমান বিনোদনের একটি খাত সৃষ্টি করেছেন। নারীদের ভ্রমণ ও গাড়ি চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু দেশের প্রধান সংস্কারপন্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের তার নজরদারিতে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অথচ তাদের মধ্যে অনেকেই সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, একটি সত্যিকার সংস্কারগামী সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি, আটক ও নির্যাতনের শিকার বানাবে না। তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটের সাংবাদিক খাসোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই অপরাধ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে।  সূত্র : যুগান্তর অনলাইন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১২











ব্রেকিং নিউজ