খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ |

আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে পরিবার সমাজ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে

০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে পরিবার সমাজ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে

দেশে আত্মহত্যার হার বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ১৪ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার এতটাই বেশি যে, এখন আত্মহত্যাই এ বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। বাংলাদেশে বছরে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছে। আর দেশে মানসিক রোগীর সংখ্যা জনসংখ্যার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ মানসিক রোগে ভুগছে। এ হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিষয়টি উদ্বেগের।
আমাদের দেশে বর্তমানে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও ভাঙাগড়া চলছে। মানুষ নিজ নিজ জীবনে বৈষয়িক উন্নতি ও সাফল্যের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্চাভিলাষ ও আকাঙ্খার সীমাও বাড়ছে। তাতে মনের ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে। সাফল্যের এ প্রতিযোগিতায় অনেকে জয়ী হলেও অধিকাংশেরই আশা পূরণ হচ্ছে না। সাফল্যের জন্য প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে যে পারিবারিক সমর্থন, আনুষঙ্গিক ও পারিপার্শ্বিক আনুকূল্য প্রয়োজন হয় তা অনেক সময় যথাসময়ে সঠিকভাবে মেলে না। হয়তো বারবার চেষ্টায় ব্যর্থ হলে তখন আর হতাশা চেপে রাখতে পারে না অনেকে।
আমরা লক্ষ করছি, দীর্ঘদিন বেপরোয়া তৎপরতার মাধ্যমে বেআইনি অবৈধ পথে অনেকেই বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে, বিলাসী জীবনযাপনও করতে শুরু করেছে। কিন্তু একসময় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এসব বন্ধে অভিযানে নামতেই হতো। ফলে এর মধ্যে অপরাধী প্রকৃতির মানুষদের দৌড় বন্ধ হয়ে আসবে। কিন্তু যারা পরিস্থিতি ও পরিবেশের প্রভাবে প্রতিযোগিতায় নামছে তাদের পক্ষে এ অবস্থায় নিজেদের রক্ষা করা মুশকিল হবে। তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহননের পথ ধরতে পারে অনেকেই।
আজকাল কিশোর বয়স থেকেই সাফল্যের মোহ জাগানো হয়। আর যে কোনো ব্যর্থতা তাদের মনের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। কয়েকবার প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তারাও আত্মহত্যার পথে যেতে পারে। আবার এ সময় থেকে প্রথম তারুণ্য পর্যন্ত প্রেম-ভালোবাসার অনুভূতিও তীব্র হয় এবং এ থেকেও আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসক লক্ষণ ও রোগ দেখার পরেও দৃশ্যপটে ওষুধপত্র দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু এ ধরনের মানসিক অবস্থা কাটিয়ে ওঠা কঠিন। এর জন্য ব্যক্তির নিজের প্রয়াস যথেষ্ট নয়, পরিবারের চেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ। দু’টোই ঠিকভাবে না পেলে রোগীর পক্ষে হতাশার গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয় না। ফলে আমরা বলব, আত্মহত্যার প্রবনতা রোধে পরিবার, সমাজ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবারকে কিশোর-তরুণদের আরও সংবেদনশীল হয়ে সঙ্গ দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রতিযোগিতার ধারা থেকে তাদের জ্ঞানচর্চা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজের ধারায় আনতে হবে। তাতে কিশোর-তরুণদের ওপর প্রত্যাশার মানসিক চাপ কমে আসবে। আর জীবন ও সাফল্য সম্পর্কে ধারণাগুলোকে বৈষয়িক উন্নতির চেয়ে মানসিক ও মানবিক প্রশান্তির সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। তাতে জীবন সম্পর্কে আসল ধারণার সন্ধান পেয়ে মানুষ চাপমুক্ত ও আত্মহত্যার আশঙ্কামুক্ত জীবন নিশ্চিত করতে পারবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ